ট্রাফিক সপ্তাহের ৮ম দিনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ : জনসচেতনতায় মাইকিং ও

373

লিফলেট বিতরণসহ হেলমেট বিক্রি : ২৪২ মামলাসহ ৭টি যানবাহন আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে চলমান ট্রাফিক সপ্তাহে’র ৮ম দিনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের ব্যতিক্রম উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে। ট্রাফিক আইনের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মাইকিং ও বিভিন্ন ধরণের গাড়ির চালক, পথচারী ও সাধারণ জনগণসহ কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ ও মোটরসাইকেল আরোহীদের কাছে মামলা না করার শর্তে কমদামে হেলমেট বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে গতকাল দিনভর ৬৯ হাজার ৫শ’ ৪৫ টাকা জরিমানা, ২৪২টি মামলাসহ ৭টি যানবাহন আটক করা হয়েছে। লিফলেট বিতরণকালে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ বলেন, সাধারণ জনগণ সচেতন হলেই ট্রাফিক আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব।
গত ৫ আগস্ট রোববার থেকে শুরু হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহ’র গতকাল ৮ম দিন সোমবার সকাল ৯টার পর থেকে জেলা পুলিশ শহরের শহীদ হাসান চত্তরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অভিযানসহ জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ড চালায়।
জানা যায়, ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে সারা বাংলাদেশে একযোগে চালানো হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান। সপ্তাহব্যাপী চলা এ অভিযানের ফলাফল ভালো পাওয়াতে দেশব্যাপী ট্রাফিক সপ্তাহ’র কার্যক্রম তিনদিন বৃদ্ধি করা হয়। বৃদ্ধি হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহ’র গতকাল ৮ম দিনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ট্রাফিক আইনের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ আইন মানতে শহরের মোড়ে মোড়ে করা হয় মাইকিং। মোটরসাইকেল আরোহীদের কাছে কম দামে বিক্রি করা হয় হেলমেট। দুপুরের পর শহীদ হাসান চত্ত্বরসহ আশপাশ এলাকায় বিভিন্ন ধরণের গাড়ীর চালক, পথচারী ও সাধারণ জনগণসহ কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করা হয় চালক ও যাত্রীদের করণীয় বিষয়ক লেখা সংবলিত লিফলেট। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও আলমডাঙ্গা সার্কেল) কলিমুল্লাহ, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা ও জীবননগর সার্কেল) আবু রাসেল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদর থানার (ওসি) ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন খাঁন, ট্রাফিক ইন্সপ্যাক্টর আহসান হাবিবসহ অনেকে।
ট্রাফিক অফিস সুত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসান চত্তর, কোর্ট মোড়, একাডেমি মোড়, রেল গেইট, পুলিশ লাইন, আলমডাঙ্গা রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। দিনব্যাপী এ অভিযানে জরিমানা আদায় করা হয় ৬৯ হাজার ৫শ’ ৪৫টাকা। ২শ’৪২ টি মামলাসহ আটক করা হয়েছে ৭টি যানবাহন। আটককৃত এসকল যানবাহনের মধ্যে সবগুলো মোটরসাইকেল। এছাড়াও যেসকল মোটরসাইকেল আরোহীদের গাড়ির কাগজ, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যাবতীয় কাগজপাতি ঠিক থাকার পরও মাথায় হেলমেট ছিলোনা তাদের কাছে কম দামে বিক্রি করা হয় হেলমেট। শর্তসাপেক্ষে হেলমেট না কিনলে দেওয়া হয় মামলা। দিন শেষে ১৮ জনের কাছে হেলমেট বিক্রি করতে পেরেছে পুলিশ।
চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে চলামান এ অভিযানে গতকাল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮শ’২০টি মামলা। আটক করা হয়েছে ৪২টি যানাবাহন। আটককৃত এসকল যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের পরিমাণ বেশি বলে জানায় ট্রাফিক অফিস।
শহীদ হাসান চত্বরে লিফলেট বিতরণ করার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিমুল্লাহ বলেন, চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে সারা দেশব্যাপী বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ চলছে। গত রোববার একসপ্তাহ পূর্ণ হলেও চলমান এ কার্যক্রমের ফলাফল ভালো হওয়াতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও ডিআইজি অফিসের নির্দেশনার ফলে আরো তিনদিন এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। যার ফলে আজ (গতকাল) সকাল থেকে আমাদের চুয়াডাঙ্গা পুলিশ কিছু ব্যতিক্রমী কর্মকান্ড পরিচালনা করছি। যেমন জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং করা, হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল আরোহীদের কাছে শর্তসাপেক্ষে কম দামে হেলমেট বিক্রিকরাসহ চালক ও যাত্রীদের করনীয় বিষয়ক লেখা সংবলিত লিফলেট বিতরণ করছি। আর এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আমরা চাচ্ছি সমাজে ট্রাফিক আইন মানার একটা প্রবণতা তৈরি হোক। যাতে এইভাবে হরদম মামলা দেওয়া না লাগে। তারা নিজেরা যাতে সচেতন হয়ে ট্রাফিক আইন মানে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় সে কারনে আমাদের এই নানামুখি উদ্যোগ। কারণ সকলে যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় তাহলে আইন প্রতিষ্ঠা করতে সহজ হবে।