ট্রাকের ধাক্কা : আলমসাধু চালক নিহত : নারী পথচারী আহত

499

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অদূরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত গতির

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে ট্রাকচাপায় নজরুল ইসলাম নামের এক আলমসাধু চালক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন সায়রা খাতুন নামের এক পথচারী নারী। গতকাল সোমবার বেলা ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহত সায়রাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। নিহত নজরুলের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের হীমঘরে রাখা হয়। আহত সায়রার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন। অপরদিকে, গতকাল বিকেলে নিহত নজরুল ইসলামের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। নিহত নজরুল ইসলাম (৫৫) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের মৃত সাদেক আলী মন্ডলের ছেলে। আহত সায়রা খাতুন (৪৫) চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের কলোনী পাড়ার মৃত রজব আলীর স্ত্রী।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুরে খালি আলমসাধু নিয়ে নজরুল ইসলাম কলেজ রোড হয়ে কোর্ট মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে পৌছালে পিছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক (চুয়াডাঙ্গা মেট্রো-ট-১১-০০২৪) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আলমসাধুকে থাক্কা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় আলমসাধুটি ছিটকে গিয়ে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের প্রাচিরের কাছে গিয়ে নিয়ে থেমে যায়। এতে আলমসাধু চালক ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ সময় পথচারী সায়েরা খাতুন আলমসাধুর নিচে চাপা পড়েন। অবস্থা বেগতিক হলে ট্রাক চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আলমসাধু চালক ও পথচারীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমসাধু চালক নজরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সায়রা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, নজরুলের মাথায় প্রচন্ড আঘাত হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই তিনি মারা যান। আহত সায়রা খাতুনের অবস্থা আশংকাজনক। তার বাম পায়ের হাড় ভেঙে গুড়ো হয়ে গেছে এবং বুকে প্রচন্ড আঘাত লেগেছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোজাম্মেল হক বলেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় নিহত নজরুলের ছেলে মাজহারুল ইসলাম রনি বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গতকাল বিকালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এঘটনায় অভিযুক্ত চালককে এখনও পর্যন্ত আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গতকাল বিকালে নিহত নজরুলের মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে নিজ গ্রাম বোয়ালমারীতে নেয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জান্নাতুল মাওয়া কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।