চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টাখনুর নিচে কাপড় পরা হারাম কেন?

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১ ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ধর্ম প্রতিবেদন:
টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরা নিষিদ্ধ। যারা লুঙ্গি বা পাজামা টাখনুর নিচে পরবে তাদের ভয়াবহ পরিণতির কথা বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। টাখনুর নিচে কাপড় পরা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ ও পরিণতি কী? এ সম্পর্কে হাদিসের দিকনির্দেশনাই বা কী? পুরুষদের জন্য টাখনুর নিচে কাপড় পরা হারাম, কবিরা গুনাহ এবং জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ হলো টাখনুর নিচে কাপড় পরা যাবে না। তা নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য এ নির্দেশনাই যথেষ্ট। তারপরও টাখনুর নিচে কাপড় পরা বিষয়ে নিষিদ্ধের কারণ, সতর্কতা ও শাস্তির বিষয়টি হাদিসের একাধিক বর্ণনায় উঠে এসেছে। তাহলো-
১. গোড়ালির নিচের অংশ জাহান্নামে যাবে
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ইজার (লুঙ্গি/পাজামা) বা পরিধেয় কাপড়ের যে অংশ পায়ের গোড়ালির নিচে থাকবে; সে অংশ জাহান্নামে যাবে।’ (বুখারি)
২. আল্লাহ রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ কেয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির দিকে (দয়ার) দৃষ্টি দেবেন না, যে ব্যক্তি অহংকার করে ইযার (লুঙ্গি/পাজামা) বা পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে (টাখনুর নিচে) পরেছে।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ) হজরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে ফিরে তাকাবেন না। এমনকি তাদের গুনাহ থেকেও পবিত্র করবেন না। বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথাটি তিনবার বলেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারা কারা? যাদের মুক্তির কোনো পথ নেই। তিনি বললেন, তারা হলো- যে ব্যক্তি পায়ের গোড়ালির নিচে কাপড় (লুঙ্গি/প্যান্ট/পাজামা) ঝুলিয়ে পরে। যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম/শপথ করে ব্যাবসার পণ্য বিক্রয় করে। যে ব্যক্তি উপকার করার পর আবার খোঁটা দেয়।’ (মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)
৩. মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেবেন
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন অথবা আবুল কাসিম বলেছেন, ‘এক ব্যক্তি আকর্ষণীয় জোড়া কাপড় পরতো আর চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে পথ অতিক্রম করতো; হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেন। কেয়ামত পর্যন্ত সে এভাবে ধ্বসে যেতে থাকবে।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)
৪. নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ
টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরার ব্যাপারে যেমন বিশেষ সতর্ক করেছেন; তেমনি ঝুলিয়ে কাপড় পরা হারাম বা নিষিদ্ধের কারণও তিনি তুলে ধরেছেন এভাবে-
হজরত জাবের ইবনে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরার ব্যাপারে সাবধান হও। কারণ, তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ অহংকার করাকে পছন্দ করেন না।’ (আবু দাউদ)
মূলকথা হলো
টাখনুর নিচে কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। ইসলামি শরিয়তের আলোকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করতে নিষেধ করেন তা করা হারাম বা কবিরা গুনাহ। অথচ টাখনুর নিচে কাপড় পরতে বিশ্বনবি শুধু নিষেধই করেননি বরং শাস্তি ও পরিণতির কথাও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। টাখনুর নিচে কাপড় পরা নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য হাদিসের এ নির্দেশনাই যথেষ্ট। সুতরাং মুমিন মুসলমান পুরুষদের উচিত, পায়ের গোড়ালি বা টাখনুর নিচে যে কোনো কাপড় পরা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। যেহেতু বিষয়টি সম্পর্কে হাদিসে সতর্কতা ও শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের নির্দেশনা মেনে পোশাক পরার ক্ষেত্রে হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।