চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টাকার তীব্র সঙ্কট : আর্থিক প্রতিষ্ঠান তহবিল চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: টাকার সঙ্কট মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তারল্য সহায়তা চেয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। একই সাথে আমানত সংগ্রহ বাড়াতে সুদ হারের সীমা তুলে দেয়ার দাবি করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে বৈঠক করে এ দাবি করেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেশির ভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো টাকার সঙ্কটে ভুগছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে টাকার সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডিদের সাথে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এ সময় ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএলএফসিএ) চেয়ারম্যান ও আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম গতকাল জানিয়েছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান পরিস্থিতিতে তহবিল জোগান বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তারল্য সুবিধা চাওয়া হয়েছে। একই সাথে আমানতের সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর বিষয়টি নিয়মের মধ্যে থেকে বিবেচনা করবেন বলে তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি গতকাল জানিয়েছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ দিন ধরে তহবিল সঙ্কটে ভুগছে। এ তহবিল সঙ্কট মেটাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে প্রধান বাধা হলো আমানত সংগ্রহের প্রতিবন্ধকতা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আমানতের সর্বোচ্চ হার বেঁধে দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। বলা হয়েছিল, ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশের বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে না। এতেই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে বিপাকে। তারা ৭ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করতে পারছে না। কারণ এমনিতেই বর্তমানে আমানতের সঙ্কট রয়েছে। বেশির ভাগ ব্যাংক বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। নানা ব্যয় দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া বাড়তি সুদের বাড়তি অংশ সমন্বয় করছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে বিপাকে। তারা এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া আমানতের সর্বোচ্চ সুদহার তুলে দেয়ার জন্য গভর্নরের কাছে দাবি করেছেন।
অপর একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি গতকাল জানিয়েছেন, সাবেক রিলায়েন্সের (বর্তমান আভিভা) এমডি পিকে হালদারের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের নামে অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার তথ্য বের হওয়ার পর থেকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আস্থার সঙ্কটে পড়ে যায়। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। এমনকি ব্যাংক থেকে যে কলমানি সুদে ধার নিয়েছিল ওই অর্থও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ফেরত দিতে পারছে না। এর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বেশির ভাগ গ্রাহক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তারা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমানত প্রত্যাহার করে ব্যাংকের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। এতেই প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়ে যায়। এক দিকে আস্থার সঙ্কট, অপর দিকে সুদহার কমে যাওয়ায় গ্রাহকরা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আর আমানত রাখছে না। এতেই তহবিল সঙ্কটে পড়ে গেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ দিকে, সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চার বারে ২১ বছর পর্যন্ত ঋণ নবায়নের সুযোগ দেয়া হয়। একই সাথে ঋণ নবায়নে এককালীন নগদ পরিশোধেও ছাড় দেয়া হয়েছে। আগে যেখানে ঋণ নবায়নে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হতো, এখন করতে হবে মাত্র ৬ শতাংশ। আর আগে সর্বোচ্চ তিন বার খেলাপি ঋণ নবায়ন করা যেত, এখন করা যাবে সর্বোচ্চ চারবার। ঋণখেলাপিদের এ বিশাল ছাড় দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ নবায়নের সুযোগ দেয়ায় ঋণ আদায় আরো কমে যাবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে টাকার সঙ্কট বেড়ে যেতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সুশাসনের অভাবে ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারীর ঘটনা ঘটে। একমাত্র রিলায়েন্সের সাবেক এমডি পিকে হালদারের মাধ্যমেই সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা কেলেঙ্কারির ঘটনা সংঘটিত হয়। বর্তমানে পিকে হালদার বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখন গ্রাহকের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। এর ফলে সামগ্রিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেই আস্থার সঙ্কট দেখা দেয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা ও তারল্য সরবরাহের কারণে বেশির ভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের টাকার সঙ্কট কেটে গেলেও প্রায় ডজন দেড়েক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এখনো টাকার সঙ্কট কাটেনি। বেশির ভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ হারে আমানত সংগ্রহ করছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।