চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২২ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড কুষ্টিয়া

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ২২, ২০২২ ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:

কুষ্টিয়ায় ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়িসহ আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে জেলাজুড়ে বয়ে যাওয়া এই তাণ্ডবে দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘরের চালা উড়ে গিয়েছে। উপড়ে গেছে অনেক গাছ। গাছের ডাল পড়ে বেশ কিছু এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন উপজেলায় শত শত গাছপালা ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে আছে। শত শত হেক্টর জমির ধানসহ আম, কাঁঠাল, লিচু ও বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও জেলার শতাধিক গ্রামে ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে কুমারখালী উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ অন্যান্য জায়গা থেকে অনেকটা কম। ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে এবং গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে অনেক স্থানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে কর্মীরা।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আম ও লিচু বাগানের মালিক মন্টু ব্যাপারী বলেন, আমার বাগানের প্রায় সব লিচু ও আম ঝড়ে পড়ে গেছে। কিছু কিছু লিচু পাকা শুরু করেছে আর এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে আম পাকা শুরু হতো। কিন্তু এই ঝড়ের কারণে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।

মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান এলকার লাবু বলেন, ঝড়ে তার দু’টি টিনের ঘরে চালা উড়ে গেছে। অনেক ধারদেনা করে ঘর দুটো বানিয়েছিলাম। এখন আবার নতুন করে আমার পক্ষে এসব ঘর ঠিক করা খুবই কষ্ট হবে।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচলক জানে আলম জানান, ঝড়ের কারণে সড়কের দু’পাশে শত শত গাছের ডালপালা ভেঙে ও উপড়ে সড়কে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় এলাকাবাসীর সহায়তায় আবার কোথায় কোথাও ফায়ার সার্ভিসের টিম গাছগুলো সড়ক থেকে সরাতে কাজ করছে।

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) মোঃ মোকসেমুল হাকিম বলেন, ঝড়ের তাণ্ডবে জেলাব্যাপী ব্যাপাক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে এবং গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে অনেক স্থানের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছি।

কুমারখালী আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ মামুন আর রশিদ বলেন, কুষ্টিয়া জেলায় সাত কেটিএফ ঝড় ও ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ঝড়-বৃষ্টি প্রায় ১৫ মিনিট ধরে হয়েছে। তবে তুলনামূলক কুমারখালী উপজেলায় ঝড়ের মাত্রা অন্য উপজেলা থেকে কম হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রমানিক বলেন, ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিক নির্ণয় করা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতিরপরিমাণ নির্ণয় করতে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে কাজ করছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।