চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২১ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝিনাইদহ হাসপাতালে ওষুধ সংকট চরমে!

ঝিনাইদহ অফিস:
মে ২১, ২০২২ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহ আড়াই’শ বেড জেনারেল হাসপাতালে পাঁচ মাস ধরে গ্যাসের ওষুধ নেই। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বেশকিছু জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) গ্যাস্ট্রিকের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করতে পারছে না। এদিকে, সরকারি ওষুধ না পেয়ে হতদরিদ্র রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই হাসপাতালের ওষুধ না পেয়ে কিনতেও পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ওমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল, এন্টাসিড, ভিটামিন বি ও ডায়াবেটিসের ওষুধ মেটফরমিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফার্মাসিস্ট ও ভান্ডার রক্ষকরা বলছেন, বগুড়া এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি (ইডিসিএল) থেকে এসব জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু চাহিদা থাকার পরও দিতে পারছে না। ফলে প্রতিনিয়ত রোগী ও প্রভাবশালীদের কাছে নাজেহাল হতে হচ্ছে হাসপাতালের স্টাফদের।
ঝিনাইদহ আড়াই’শ বেড জেনারেল হাসপাতালের স্টোরকিপার সানোয়ার হোসেন জানান, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। যোগদান করার পর থেকেই দেখছি কিছু ওষুধ ভান্ডারে নেই। আমরা সর্বক্ষণ ইডিসিএলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি। তারা সরবরাহ করলেই হাসপাতালের ফার্মেসি ও ইনডোরে সাপ্লাই দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইতঃমধ্যে আমরা ৫০ হাজার এন্টাসিড, ৩০ হাজার ওমিপ্রাজল ও ৫০ হাজার প্যান্টোপ্রাজল পেয়েছি। শনিবার থেকে সেগুলো দেওয়া হবে।’
হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট রুহুল আমিন জানান, ‘সপ্তাহে আমাদের এক লাখ করে গ্যাসের বড়ি লাগে। সেই হিসেবে বছরে ৫২ লাখ দরকার হয়।’ তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিটি রোগী গ্যাসের বড়ি নেয়। ফলে সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ হাজার গ্যাসের বড়ি প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, জরুরিভাবে কিছু ওষুধ (গ্যাস্ট্রিকের) পাওয়া গেছে। তা হয়ত ৫-৬ দিন চলতে পারে। ফার্মাসিস্ট রুহুল আমিন বলেন, ৪-৫ মাস ধরে গ্যাসের কোনো ওষুধ ছিল না। এ সময়টা তাদের অনেক নাজেহাল হতে হয়েছে। বিশেষ করে কিছু প্রভাবশালী রোগী তাদেরকে নানা ধরণের গালমন্দও করেছেন।

এদিকে, অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল, হাসপাতালের স্টাফ ও আড়াই’শ বেড জেনারেল হাসপাতালে ইন্টার্নি করতে আসা শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন আইটেমের ওষুধ নিয়ে থাকেন। তাঁদের কারণে দ্রুত ভান্ডারের ওষুধ ফুরিয়ে যায়। বিশেষ করে গ্যাসের বড়ির সংকট দেখা দেয়। এর আগে হাসপাতালের আশেপাশে বেসরকারি ক্লিনিকে কর্মরর্ত ম্যাটস, আইএইচটি ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ উত্তোলনের সময় ধরা পড়ে। কিন্তু তাঁদের কোনো শাস্তি দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই চক্রটি এখনো একইভাবে ওষুধ উত্তোলন করে যাচ্ছে। হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর থেকে দেদারছে ওষুধ উত্তোলনের প্রবণতা রোধ করা না গেলে প্রয়োজনের সময় রোগীরা বিপদে পড়তে পারেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

ব্যাপারীপাড়ার হতদরিদ্র সবুরা খাতুন নামে এক রোগী বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে তিনি হাসপাতাল থেকে কোনো গ্যাসের বড়ি পাননি। ধার-দেনা করে তাঁকে বড়ি কিনে খেতে হয়েছে। পাগলাকানাই এলাকার রুহুল শেখ জানান, বাজারে একটা গ্যাসের বড়ি ৮-১০ টাকা দাম। হাসপাতাল থেকে তিনি কোনো ওষুধ পাননি।
বিষয়টি জানতে আড়াই’শ বেড জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজাউল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। সিভিল সার্জন ডা. সুপ্রা রানী দেবনাথ জানান, তিনি তো হাসপাতালের দায়িত্বে নেই। তবে যতদুর জানি ওষুধ কেনার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সব রকমের ওষুধ সাপ্লাই আছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, ক্লিনিকের দালাল, হাসপাতালের স্টাফ ও ইন্টার্নি করতে আসা শিক্ষার্থীদের দেদারছে ওষুধ দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। এটা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।