চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৩ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচন : দুই এমপিকে সতর্ক করে ইসির চিঠি

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নৌকার প্রার্থিতা বাতিল
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ৩, ২০২২ ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহ অফিস: নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আব্দুল খালেকের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব (নির্বাচন প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এদিকে, ঝিনাইদহের দুই সংসদ সদস্যকে সাবধান করে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গ করায় তাঁদের সাবধান করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসির নির্বাচন প্রশাসন শাখার উপ-সচিব মো. মিজানুর রহমান তাঁরদেকে চিঠি পাঠিয়েছেন। ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকী ও ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়।

নৌকার প্রার্থিতা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়সূচি অনুসারে আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল খালেক ও তার সমর্থক কর্তৃক মিছিল-শোভাযাত্রা করে ১৮ মে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে, যা ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। নৌকার প্রার্থী আব্দুল খালেক অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কাইয়ুম শাহরিয়র জাহেদীর প্রচারাভিযানে বাধা প্রদান করেছেন। তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাখ্যা চাওয়ার পর তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন আচরণ বিধিমালা মেনে চলবেন বলে অঙ্গীকার করেন।’ এছাড়া একজন নির্বাচন কমিশনার গত ২৯ মে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উপস্থিত থেকে সব প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণ মেনে চলার বিষয়ে মৌখিক অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। এরপরেও আব্দুল খালেকের সমর্থকরা ১ জুন অপর প্রার্থী কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী ও তার সমর্থকদের আক্রমণ করে আহত করেন, যা বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওতে প্রকাশ পায়।’

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘উল্লেখিত কার্যক্রম পৌরসভা (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৫ এর লঙ্ঘন একাধিকবার হয়েছে এবং উল্লিখিত ঘটনাগুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে পৌরসভা (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৫ এর বিধান লঙ্ঘন করেছেন। পৌরসভা নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০১৫ এর বিধি ৩২ অনুসারে নির্বাচন কমিশন ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাচনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল খালেকের প্রার্থিতা বাতিল করলেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন রাত সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের ধোপাঘাটা নতুন ব্রিজ এলাকায় ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সর্মথকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে স্বতন্ত্র  মেয়র প্রার্থী কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল ও তার বড় ভাই পিপুলসহ অন্তত ৭ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও তার বড় ভাইসহ তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

এদিকে রিটানিং অফিসার ওলিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনার পর নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পায়রা চত্বরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে সমাবেশ করে। বিষয়টি কমিশনকে জানানো হয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনও সমাবেশ না করতে নিষেধ করে।

প্রার্থিতা বাতিল নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল খালেক বলেন, ‘প্রার্থিতা ফিরে পেতে আমি ট্রাইব্যুনালে আপিল করব। আশা করি সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’ উল্লেখ্য, আগামী ১৫ জুন ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে সরব হয়ে ওঠে জেলা শহরের ভোটাররা। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিজলের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হামদহ এলাকায় নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও সর্বশেষ প্রার্থীর ওপর হামলা করার ফলে শান্ত পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থিতা বাতিলের পর টিকে থাকল স্বতন্ত্র কাইয়ুম শাহারিয়ার জাহেদী হিজল, আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত মিজানুর রহমান মাসুম এবং ইসলামী অন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম।

ঝিনাইদহের দুই এমপিকে সতর্ক করে ইসির চিঠি:

ঝিনাইদহের দুই সংসদ সদস্যকে সাবধান করে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গ করায় তাঁদের সাবধান করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসির নির্বাচন প্রশাসন শাখার উপ-সচিব মো. মিজানুর রহমান তাঁরদেকে চিঠি পাঠিয়েছেন। ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকী ও ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলমান রয়েছে। নির্বাচনে কোনো কোনো এলাকায় আচরণ বিধিমালার ব্যত্যয় ঘটানো হচ্ছে অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন, যা আচরণবিধির সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসহ অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব সংসদ সদস্যকে উক্তরূপ বিধি বিধান সদয় অবগতির জন্য এখানে পুনরুল্লেখ করা হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে বা তাদের সংশ্লিষ্টতার কারণে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত বটে। এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য দায় এড়াতে পারেন না। এ ধরণের ঘটনা ঘটবে না বলে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত আশাবাদী। এরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে,  সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর অবস্থানে যেতে হতে পারে। সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার হলে তিনি কেবল তার ভোট প্রদানের জন্য নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন এবং ভোট শেষে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।