ঝিনাইদহে স্মার্ট কার্ড বিতরণ উদ্বোধন : চুয়াডাঙ্গায় উদ্বোধনকালে হুইপ ছেলুন এমপি

748

ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম উদাহরণ এই স্মার্ট কার্ড
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের ২৭ জেলার ভোটারদের মাঝে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) বিতরণ শুরু হয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় গতকাল বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে স্মার্ট কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নাগরিকদের মাঝে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি বলেন, ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ঘোষণা দিয়েছিলেন, দল ক্ষমতায় গেলে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তরিত করা হবে। এ কথায় মুখ টিপে হেসেছিলেন বিরোধী পক্ষরা। আজ সত্যিই বাংলাদেশ পুরাপুরি ডিজাটালে রুপ নিচ্ছে। এই স্মার্ট কার্ডই তার বড় উদহারণ। তিনি আরও বলেন, এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। এটি শুধু সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।
জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সভায় অতিথি হিসাবে থেকে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামসুল আবেদীন খোকন, সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা পৌর সভার সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম ই¯্রাফিল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াশীমুল বারী, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম মালিক।
পরে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপিসহ ২০ জনের মাঝে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ১নং ওয়ার্ডের নাগরিকদের মাঝে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে পৌর এলাকার সকল ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ইউনিয়নের নাগরিকদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হবে।
এই নতুন স্মার্টকার্ডের জন্য ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির ছাপ দিতে হবে। এই কার্ডের চিপে (তথ্যভান্ডার) নতুন এই দুই তথ্য ছাড়াও ভোটার হওয়ার সময় প্রত্যেক নাগরিকের দেওয়া কমপক্ষে আরও ১৬টি তথ্যও সংরক্ষিত থাকবে। এগুলো হলো- ব্যক্তির নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, পেশা, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা, বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, জন্মতারিখ, রক্তের গ্রুপ, জন্ম নিবন্ধন সনদ, লিঙ্গ, জন্মস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দৃশ্যমান শনাক্তকরণ চিহ্ন, ধর্ম। এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট নম্বর, আয়কর সনদ নম্বর, টেলিফোন ও মোবাইল নম্বর, মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, স্বামী বা স্ত্রীর নাম ও পরিচয়পত্র নম্বর থাকলে এবং মা-বাবা, স্বামী বা স্ত্রী মৃত হলে সে-সংক্রান্ত তথ্য, অসামর্থ্য বা প্রতিবন্ধী হলে সেই তথ্যও উল্লেখ থাকবে। কাগজের তৈরি লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্রের ওপরে ছয়টি তথ্য লেখা থাকে। এটি সবাই দেখতে পারে। কিন্তু স্মার্টকার্ডে আটটি তথ্য থাকবে। এখানে জন্মস্থান ও কার্ড প্রদানের সময়টি লেখা থাকবে।
ঝিনাইদহ অফিস জানিয়েছে, ঝিনাইদহে স্মার্ট জাতীয় পরিচয় পত্র বিতরণ কর্মসুচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, সদর ইউএনও শাম্মি ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস, পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু ও নির্বাচন অফিসার রোকনুজ্জামানসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে গ্রাহকদের মধ্যে বিতরন করা হয় স্মার্ট কার্ড। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে আগামী ৪ মাস। পর্যায়ক্রমে সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৩ লাখ ৪২ হাজার ভোটারদের মাঝে স্মার্ট জাতীয় পরিচয় পত্র বিতরণ করা হবে।