চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২১ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝিনাইদহে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২১, ২০২২ ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাহিদুল হক বাবু, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে স্ত্রীর দেওয়া মামলা থেকে বাঁচতে সাবেক স্ত্রীর সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকালে ঝিনাইদহের সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের এক শালিসে মামুনুর রশিদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে। অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ ঝিনাইদহ সদর উপজেলা মহারাজপুর গ্রামে ওয়াজেদ আলীর ছেলে।

সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ‘সদর উপজেলার সাগান্না গ্রামের আব্দুল কাদিরের মেয়ে সারমিন খাতুনের সঙ্গে ৬ বছর পূর্বে বিবাহ হয় মামুনুর রশিদের। তবে পারিবারিক কলহের জের ধরে দুজনের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরই মধ্যে সারমিন তার সদ্য তালাকপ্রাপ্ত স্বামী মামুনুর বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। এসময় মামলা থেকে বাঁচতে মামুনুর রশিদ তার সাবেক স্ত্রীকে মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের একটি কাজী অফিসে বিবাহের নামে প্রতারণা করে। পরবর্তীতে সারমিন স্ত্রী দাবি নিয়ে মামুনুরের বাড়িতে গেলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় সারমিন সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদে মামুমুন রশিদের নামে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদে বিবাহের বিষয়টি জানাজানি হলে মামুনুর রশিদ তা অস্বীকার করেন।

ভুক্তভোগী সারমিন খাতুন জানান, তার স্বামী মামুনুর রশিদের সাথে দীর্ঘদিন ৬ বছর সংসার করার পর পারিবারিক ঝামেলা হবার কারনে তাকে ডিভোর্স দেয়। তখন অধিকার ফিরে পেতে আদালতে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরে সেই মামলা থেকে বাঁচতে নতুন করে তার সাথে অভিনয় শুরু করে। ডিভোর্সের পরও দীর্ঘদিন তাকে বিভিন্ন আত্মীয়র বাড়িতে নিয়ে বেড়িয়েছে। এরপর মহেশপুরে গেলে ৪দিন পর সেখানকার লোকজন আমাদের পুণরায় বিবাহ দিয়ে দেয়। পরে আমি স্বীর অধিকার  নিয়ে শ্বশুগ বাড়িতে গেলে তারা আমাকে তাড়িয়ে দেয়। পরে আমি ইউনিয় পরিষদে অভিযোগ করি। এখন আমার স্বামী আমাকে অস্বীকার করছে। আমি আমার অধিকার চাই।

সাগান্না ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বলেন, স্বামীর অধিকারের দাবীতে সারমিন খাতুন নামের একটি মেয়ে মহারাজপুর গ্রামের মামুনুর রশিদের নামে অভিযোগ করেছেন। তাদেরকে শালিসে ডাকলে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা এখানে আসে। ডিভোর্সের পর পুণরায় বিবাহের কাবিনের বিষয়ে মামুনুর রশিদ প্রথমে অস্বীকার করলেও তার স্বাক্ষরের মিল ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে স্বীকার করেন। তার পরও সে স্ত্রীকে অস্বীকার করে তাকে পুণরায় ডিভোর্স দেওয়ার হুমকি দেয় ও ইউনিয়নের শালিস না মেনে চলে যায়। সে একজন প্রতারক, তাকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এবিষয়ে অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে সেটি মিথ্যা। আমার স্ত্রীকে অনেক আগেই ডিভোর্স দিয়েছি। তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমার ডিভোর্সি স্ত্রীকে মহেশপুরে কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিবাহ করার কথাও মিথ্যা।’

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।