ঝিনাইদহে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ

147

প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, শহরের শেরে-ই-বাংলা সড়কের ঝিনাইদহ মৌজার ১৭১৯ নম্বর দাগের জমিতে দেওয়ানি মামলা ও নিষধাজ্ঞা আছে। যার নম্বর-৭৮/১৭, মিস কেস-২৮/১৮। এ মামলা ও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিগত ১৬ অক্টোবর ২০১৯ সালে ওই জমিতে অবস্থিত বসতবাড়িতে অবৈধভাবে বিদ্যুতের মিটার স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২৭ আগস্ট ২০১৮ সালে ঝিনাইদহ মৌজার ১৭১৯ দাগের নালিশি জমিতে জেলা জজ ঝিনাইদহ মামলার উভয় পক্ষকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু ঝিনাইদহ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মো. টিপু সুলতানের নামে ওই জমিতে অবস্থিত বসতবাড়িতে বিদ্যুতের মিটার বরাদ্দ দিয়েছেন। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ অফিস বরাবর বারবার মিটার স্থাপন বন্ধ, মিটার অপসারণ করাসহ অবৈধ বিদ্যুৎ-মিটার প্রসঙ্গে দরখাস্ত দেওয়া হলেও কোনো কর্ণপাত করেনি বিদ্যুৎ অফিস।
এ বিষয় ওই জমির মামলার বাদী মো. সাইফুর রহমান জানান, ‘শেরে-ই-বাংলা সড়কের ১৭১৯ দাগের জমি নিয়ে জেলা জজ আদালত ঝিনাইদহে মামলা চলমান রয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্টে উভয় পক্ষকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জমিতে সব ধরনের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত। অথচ ঝিনাইদহ ওয়স্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড টিপু সুলতানের নামে জমিতে বিদ্যুতের মিটার স্থাপন করে। এরপর আমি বিদ্যুৎ অফিস বরাবর ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অবৈধভাবে বিদ্যুৎ-মিটার স্থাপন, এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর মিটার স্থাপন না করা এবং চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি মিটার অপসারণ করার আবেদন করি। কিন্তু তারা বিদ্যুৎ-মিটার অপসারণ করেনি। এরপর ৫ মার্চ ঝিনাইদহ জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট পারভীন আক্তার ছালমা বিদ্যুৎ অফিস বরাবর একটি নিগ্যাল নোটিশ পাঠান, সেটিও আমলে নেয়নি তারা। বরং অনিয়ম ও আদালতকে অবমাননা করে চলছে।’
আদালতর নির্দেশ অমান্য করে কীভাবে ওই জমিতে বিদ্যুৎ-মিটার স্থাপন করলেন, এমন জবাবে ঝিনাইদহ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার জানান, ‘এ বিষয় আমার কোনো মতামত নেই, আপনি প্রকৌশলী মুস্তাফিজুরের সঙ্গে কথা বলুন।’
প্রকৌশলী মো. মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, ‘আমাদের লিগ্যাল অ্যাডভাইজারের আইনি মতামতের মাধ্যমে সেখানে বিদ্যুৎ-মিটার স্থাপন করা হয়েছে। আপনি যদি চান তাহলে লিগ্যাল অ্যাডভাইজারের আইনি মতামতের একটি ফটোকপি দেওয়া যেতে পারে।’ তবে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করার পরও লিগ্যাল অ্যাডভাইজারের আইনি মতামতের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বিদ্যুৎ অফিস।