ঝিনাইদহের এক কিডনি রোগীর চিকিৎসার্থে চাঁদা তোলার অভিযোগ : আলমডাঙ্গায় ৪ যুবক আটক : মুচলেকায় মুক্তি

379

আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গায় ৪ যুবক ঝিনাইদহ জেলার এক ব্যক্তির ২ কিডনি নষ্ট হওয়ার কথা বলে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১১ হাজার টাকা উত্তোলনের পর উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে একটি প্রত্যয়নপত্র নেয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাদ জাহানের কাছে প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে টাকা দাবি করলে ইউএনওর সন্দেহ হয়। এরপর তাদের জিজ্ঞাসা করতে তোমরা কী লেখাপড়া কর। ওদের মধ্যে ১ জন বলে- যশোর এম,এম, কলেজের ছাত্র। ইউএনও আজাদ জাহান এমএম, কলেজের অধ্যক্ষের নাম জানতে চাইলে সে সঠিক উত্তর দিতে পারে না। ইউএনও এমএম কলেজের অধ্যেক্ষের কাছে টেলিফোন করলে এই নামে কোন ছাত্র নেই বলে তিনি জানান। ছেলেদের দুর্ভাগ্য এমএম কলেজের অধ্যক্ষ ইউএনওর শিক্ষক। এরপর অন্যান্য ছেলেদের খোঁজ খবর নেয়। জানতে পারে তারা ঝিনাইদাহ জেলার এক ব্যক্তির কিডনি নষ্টের ব্যাপারে সাহায্য উত্তোলন করছে। এসময় সমাজ সেবা অফিসার আবু তালেব ও মৎস্য অফিসার মঈনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ছেলেদের দুর্ভাগ্য ইউএনও আজাদ জাহান ও মৎস্য অফিসার আজাদ জাহান দুইজনের বাড়িই ঝিনাইদহ জেলায়। ইউএনও এই ১১ হাজার টাকা কার কাছে পাঠাবে জানতে চাইলে তারা আমতা আমতা করতে থাকে। এক পর্যায়ে বলে- বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে। বিকাশের নম্বর চাইলে একটি মহিলা অপর প্রান্ত থেকে ফোন রিসিভ করে। তাকে জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারে- তার পিতার ২টি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। ইউএনও জিজ্ঞাসা করতে আপনারা আলমডাঙ্গায় কাউকে টাকা উত্তোলন করতে পাঠিয়েছেন? এসময় ও ভদ্র মহিলা যাদের নাম বলেন, তাদের সাথে পরিচিত নয়। তারা দুই বোন এইচএসসিতে লেখাপড়া করে। এরপর ইউএনও আজাদ জাহান আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আকরাম হোসেনকে টেলিফোন করে তাদের ৪ জনকে থানায় আটকীয়ে রেখে তাদের অভিভাবকদের কাছে লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শদেন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান- এদের অভিভাবকদের কাছে দস্তখত নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। এরপর উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের উপস্থিতিতে অভিভাবকদের হাতে তাদের ৪ জনকে তুলে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ১১ হাজার ১ শ ৪১ টাকা ঝিনাইদাহ জেলার যে ব্যক্তির কিডনি নষ্ট হয়েছে, তাদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।