চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৬ নভেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জোরালো হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ৬, ২০২০ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

১৪ নভেম্বরের পর সীমিত পরিসরে খোলার চিন্তা-ভাবনা সরকারের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত আট মাস বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চলতি সপ্তাহ থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স-মাস্টার্স ফাইনাল সেমিস্টারের ব্যবহারিক ক্লাস-পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে স্কুলে আসছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে বেশির ভাগ সরকারি-বেসরকারি শিক্ষক। অবশ্য আগামী ১৪ নভেম্বরের পর সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।
বিশ্বের অনেক দেশ-ই করোনার প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ামাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। কোনো কোনো দেশ আবার কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে অনেক দেশ-ই করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অক্টোবর-নভেম্বরের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা সারা বিশ্বেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর হোসেন বলেন, ‘আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। তাঁদের বেশির ভাগই স্কুল খোলার পক্ষে। তাতে করে শিক্ষার্থীদের মানসিক অস্থিরতাও দুর হবে। তবে অনেকেই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায় দেখার জন্য বলছেন। যদি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে, তবে কিছুদিন অপেক্ষা করা ভালো।
চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায় নতুন করে শুরু হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। যদিও, সরকার প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত ভেবে চিন্তে নিচ্ছে, তবুও, স্কুল কলেজ খোলার ব্যাপারে একটু ভাবা উচিত।
চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাঈফ বলেন, বৃহস্পতিবার সারা বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। সুতরাং, একটু ভেবে দেখে কিছুদিন অপেক্ষা করা ভালো। যদি করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকে, তাহলে সমস্যা হতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশিদ বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ওপরের ক্লাসগুলো আগে খুলে পরিস্থিতি দেখা উচিত। সরকার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার যে চিন্তা-ভাবনা করছে তা সম্পূর্ণই সঠিক। এই ক্লাসগুলোকে পরীক্ষামূলক হিসেবে ধরে পরবর্তী ক্লাসগুলো খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। আর সরকার নিশ্চয় স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আলোচনা করেই চিন্তা ভাবনা করছে। তাই আমরা সরকারি সিদ্ধান্তের সাথে একমত।
চুয়াডাঙ্গা ভিজে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘প্রত্যেক শ্রেণিতে ৮০ জনের ওপরে শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলে প্রবেশ ও ছুটির সময় প্রচণ্ড জটে পড়তে হয়। করোনাকালে এসব চিন্তা করলে ভয় হয়। এখন স্কুল খুললেও ব্যক্তিগতভাবে আমি আরো কিছুদিন সন্তানকে স্কুলে পাঠাব না। তবে এটাও ঠিক, স্কুল না খুললে পড়ালেখা হচ্ছে না।’
দেশের স্কুলের শিক্ষার্থীরাও আট মাস ধরে পড়ালেখার বাইরে। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ‘দেশের অফিস-আদালত, মার্কেট, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, বাস, ট্রেন, লঞ্চ, পার্ক সর্বত্র লোক সমাগম স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কওমি মাদরাসা খুলেছে। ইংলিশ মিডিয়ামের পরীক্ষা হচ্ছে। তাহলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিন্ডারগার্টেন স্কুল খুলতে বাধা কোথায়? অবিলম্বে কিন্ডারগার্টেন খোলার অনুমতি না দিলে আগামী ১০ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
করোনায় আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা এবং এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও এরই মধ্যে বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু আট মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসির শিক্ষার্থীরা তাদের সিলেবাস শেষ করতে পারছে না। ফলে সরকার তাদের জন্য হলেও সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ভাবছে। গত ২৯ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘আগামী দুই সপ্তাহ পর আমরা চেষ্টা করে দেখব, সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় কি না। তবে সবই নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। আগামী বছর যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে, তাদের কথা বিবেচনায় রেখে খুবই সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় কি না তা আমরা চিন্তা-ভাবনা করে দেখছি।’
জানা যায়, পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। সে ক্ষেত্রে আগে বিশ্ববিদ্যালয় এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য স্কুল-কলেজ খোলা হতে পারে। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে চারজনের একটি রুমে আট থেকে ১২ জন থাকেন। মেসে থাকা শিক্ষার্থীরাও এক রুমে চারজনের কম থাকেন না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে এসব শিক্ষার্থীর পক্ষে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, যা চিন্তার বিষয়। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল না থাকায় তাদের পক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেওয়া সম্ভব।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।