চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জেলা পরিষদ নির্বাচন : চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন

পছন্দের প্রতীক পেয়েই প্রচার-প্রচারণার কাজে নেমেছেন প্রার্থীরা
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গতকাল সোমবার ছিল প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের দিন। এদিন চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে পৃথক আয়োজনে বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রার্থীদের মাঝে এ প্রতীক তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। এসময় জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার তারেক আহমেমদ, এনএসআই-এর উপ-পরিচালক জিএম জামিল সিদ্দিক এবং প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রার্থীরা নেমেছেন প্রচার-প্রচারণার কাজে।ং
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, চার সদস্য পদে ১৬ জন প্রার্থী এবং দুই সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডে (চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা) হরিণ প্রতীক নিয়ে লটারি অনুষ্ঠিত হয় এবং সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ডে (দামুড়হুদা-জীবননগর) ফুটবল প্রতীক নিয়ে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও সাবেক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু মোটরসাইকেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী আরেফিন আলম রনজু ঘোড়া এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আব্দুস সালাম চশমা প্রতীক পেয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডের (চুয়াডাঙ্গা সদর) প্রার্থী চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন হাসপাতালপাড়ার শহিদুল ইসলাম সাহান (তালা প্রতীক), নীলমণিগঞ্জ গ্রামের মাফলুকাতুর রহমান (হাতি প্রতীক), শ্রীকোল গ্রামের জহুরুল ইসলাম (বৈদ্যুতিক পাখা) ও ধুতুরহাটের আব্দুর রউফ (টিউবওয়েল) প্রতীক পেয়েছেন। সংরক্ষিত সদস্য পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে (চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা) প্রার্থী আলমডাঙ্গার বগাদী গ্রামের কাজল রেখা (বই), শিবপুর গ্রামের মনিরা খাতুন (ফুটবল), এরশাদপুরের সামশাদ রানু (হরিণ), জাহাপুরের বিথী খাতুন (টেবিলঘড়ি) ও বোয়ালিয়া গ্রামের হাসিনা খাতুন (মাইক) প্রতীক পেয়েছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের (আলমডাঙ্গা উপজেলা) সদস্য পদে প্রার্থী মুন্সিগঞ্জের খলিলুর রহমান (বৈদ্যুতিক পাখা), আলমডাঙ্গার বলেশ্বরপুরের আলতাব হোসেন (হাতি), বৈদ্যনাথপুরের মিজানুর রহমান (টিউবওয়েল), পোয়ামারী গ্রামের মজনু রহমান (তালা), এরশাদপুরের জাফর উল্লাহ (ঘুড়ি) এবং মধুপুরের তপন কুমার বিশ্বাস (উটপাখি) প্রতীক পেয়েছেন।

সংরক্ষিত সদস্য পদে ২ নম্বর ওয়ার্ডে (দামুড়হুদা ও জীবননগর) প্রার্থী জীবননগরের শিরিনা পারভিন (হরিণ), জীবননগরের কহিনুর বেগম (বই), জীবননগরের সোনদাহ গ্রামের নাহার বানু (ফুটবল), দামুড়হুদার দলিয়ারপুর গ্রামের আদুরী খাতুন (দোয়াত কলম) ও পীরপুরকুল্লা গ্রামের ইয়াসমিন খাতুন দেয়াল (মাইক) প্রতীক পেয়েছেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে (দামুড়হুদা উপজেলা) সদস্য পদে প্রার্থী দশমী গ্রামের শফিউল কবির (টিউবওয়েল), হরিশচন্দ্রপুরের লস্কর আলী (তালা) ও সাড়াবাড়িয়া গ্রামের অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম (বৈদ্যুতিক পাখা) প্রতীক পেয়েছেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে (জীবননগর উপজেলা) প্রার্থী জীবননগরের আলীপুরের মিতা খাতুন (টিউবওয়েল), গঙ্গাদাসপুরের মোসাবুল ইসলাম লিটন (হাতি) ও হাসাদাহ গ্রামের কবির আহম্মদ (তালা) প্রতীক পেয়েছেন।

এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। সাতজন নির্বাচিত হবেন। বাকিরা পরাজিত হবেন। জয়-পরাজয় বিষয় না। জয়-পরাজয়ের চেয়ে মিলেমিশে থাকবেন। পদের বাইরে থেকেও কাজ করতে পারবেন।’ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেমদ বলেন, নির্বাচনে মাইক ব্যবহার করা যাবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট করেন। মিছিল-মিটিং করা যাবে না। মিছিল ও শোডাউন করা যাবে না। মোটরসাইকেল শোডাউন করা যাবে না। আচরণবিধি মেনে চলবেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫০ হাজার টাকা হাত খরচ এবং ৫ লাখ টাকা নির্বাচনের কাজে ব্যয় করতে পারবেন। সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে হাতখরচ ১০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনে ব্যয় ১ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ অক্টোবর ইভিএমএ ভোটগ্রহণ করা হবে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজন, সদস্য পদে চারজন এবং সংরক্ষিত সদস্য (মহিলা) পদে দুইজন নির্বাচিত হবেন। স্থানীয় সরকারের পৌরসভার মেয়র- কাউন্সিলরবৃন্দ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় এবং ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ নির্বাচিত ৫৬৫ জন জনপ্রতিনিধি ভোট প্রদান করবেন। সদর উপজেলায় ১১৯ ভোট, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২১১ ভোট, দামুড়হুদা উপজেলায় ১১৮ ভোট এবং জীবননগর উপজেলায় ১১৭ ভোট রয়েছে। চারটি ভোট কেন্দ্র হলো- চুয়াডাঙ্গা সরকারি উচ্চবালিকা বিদ্যালয়, আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজ ও জীবননগর থানা পাইলট মডেল বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

মেহেরপুর:
মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ আবু আনসার প্রতিন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। এসময় তিনি মেহেরপুর জেলা পরিষদের ২ নম্বর (গাংনী উপজেলা) ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শাহানা ইসলাম শান্তনাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
এদিকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি আব্দুস সালামকে কাপ-পিরিচ প্রতীক ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মেহেরপুর সদর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব গোলাম রসুলকে আনারস প্রতীক প্রদান করেছেন। এছাড়া মেহেরপুর জেলা পরিষদের সাধারণ সদস্য পদে ১ নম্বর (মুজিবনগর উপজেল) ওয়ার্ডে মো. আলমাস হোসেনকে তালা, মো. আজিমুল বাড়িকে টিউবওয়েল, মো. আবু হাসানকে অটোরিকশা, মো. সোহেল রানা বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক প্রদান করে।
২ নম্বর (মেহেরপুর সদর উপজেলা) ওয়ার্ডে মো. আবদুল কুদ্দুসকে তালা, মো. ইমতিয়াজ হোসেন টিউবওয়েল, মো. রফিকুল ইসলামকে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক প্রদান করেন। ৩ নম্বর (গাংনী) ওয়ার্ডে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বৈদ্যুতিক পাখা, মো. মিজানুর রহমান টিউবওয়েল, মো. মজিরুল ইসলাম আটোরিকশা, মো. হাফিজুর রহমান তালা প্রতীক পেয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১ নম্বর (মেহেরপুর ও মুজিবনগর উপজেলা) ওয়ার্ডে মো. উম্মে সালমা সুলতানা ফুটবল, মোছা. নার্গিস আরা মাইক, মোছা শামিম আরা বিশ^াস টেবিল ঘড়ি প্রতীক পেয়েছেন। এবার মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ৩ জন সাধারণ সদস্য নির্বাচর করবে ২৯৪ জন ভোটার।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।