জেলায় এ পর্যন্ত অনলাইনে ১০৪টি ক্লাস নেওয়া হয়েছে

98

চুয়াডাঙ্গায় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম প্রসঙ্গে সমীকরণ সংলাপে অতিথিবৃন্দ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম প্রসঙ্গে সময়ের সমীকরণের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সমীকরণ সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত টানা দেড় ঘণ্টার আলোচনায় করোনাকালে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে। দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিকের গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় এবং প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনের সঞ্চলনায় ফেসবুক লাইভে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে অতিথি হিসেবে যুক্ত হন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মনিরা পারভীন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তী। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সংলাপে অতিথি হিসেবে থাকলেও আলোচনায় অংশ নিতে পারেননি। অনুষ্ঠানটির স্পন্সর ছিল বাংলাদেশ টেলিকম প্লাস ও চুয়াডাঙ্গা নিউ মার্কেটের পোশাকের ব্রান্ড শপ নন্দন।
করোনাকালে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম প্রসঙ্গে সরকারি নির্দেশনা কী রয়েছে, এ বিষয়ে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মনিরা পারভীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা যেন স্থবির না হয়ে যায়, এ জন্য সরকারি নির্দেশনা রয়েছে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে। এ কার্যক্রমের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলাতে ৬ জুন থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ৮ জুন থেকে আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ এবং লোকাল ডিস ক্যাবলগুলোর সরাসরি ভিডিওর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছি। যাতে করে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা একেবারে পিছিয়ে না পড়ে। প্রতিনিদিই অষ্টম, নবম এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ মিনিট করে ৩টি ক্লাস চালু রয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ২৫টি প্রতিষ্ঠানে ৬৬ জন শিক্ষকের মাধ্যমে ১০৪টি ক্লাস নেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেটের সমস্যার কারণে পুরো জেলায় এ কার্যক্রম ভালোভাবে চালু করা যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার মাত্র ৮টি ইউনিয়নে ওয়াইফাই পৌঁছেছে। বাকি ইউনিয়নগুলোতে এখনো না পৌঁছানোই এ ইউনিয়নগুলোতে অনলাইনের যেকোনো বিষয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে জেলার বাকি ইউনিয়নগুলোতে দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ বলেন, আমরা আনলাইন ক্লাস শুরু করেছি ইন্টারমিডিয়েটের প্রায় ৩ মাস আগে। আমাদের প্রতিটা ক্লাস প্রায় ১ ঘণ্টা করে হয়। শনি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে রুটিন অনুসারে আমরা ক্লাস নিয়ে থাকি। অনলাইন ক্লাসের ১ম দিকে ব্যাপকভাবে সাড়া পেলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের কম সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। এর একটিই কারণ করোনাকালে ইন্টারনেটের সমস্যা, কারো কারো আবার স্মার্টফোন নেই। যার কারণে ইচ্ছা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের তেমন সাড়া না পেলেও পরবর্তীতে ভিডিওটি অনেক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে। যা থেকে শিক্ষার্থীরা আমাদের লেকচারগুলো নোট করে পড়াশোনা কার্যক্রম কিছুটা চালু রাখছে। অনলাইন ক্লাসের সুবিধা বিষয়ে তিনি বলেন, অনলাইনে ক্লাস একটি ডকুমেন্টারি ক্লাস। লাইভ শেষ হওয়ার পরও এটি অনলাইনে সংরক্ষণ থাকে। শিক্ষার্থীরা ভিডিওটি ডাউনলোড করে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যহত রাখছে। এ ক্ষেত্রে আমাদেরও ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাসে নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। অনলাইন ক্লাসের ১ সপ্তাহ আগে থেকেই আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। এর একটিই কারণ এই ক্লাসটি সংরক্ষণে থাকে। আমাদের লেকচার যাতে গঠনমূলক হয়, এ বিষয়ে অনেক গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। তবে এই ক্লাসে শিক্ষার্থীরা অনেকাংশে উপকার পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।