জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় বাদ পড়লো ৫ বিষয় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন পাঠ্যবই পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের

707

index

জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় বাদ পড়লো ৫ বিষয়
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন পাঠ্যবই পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও এসএসসি পর্যায়ে পাঁচটি বিষয় কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জেএসসিতে আগামী শিক্ষাবর্ষ এবং এসএসসিতে ২০১৯ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা যথাক্রমে তিনটি ও দুটি বিষয়ে কম পরীক্ষা দেবে। কর্মকর্তারা জানান, আগামীতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ১৩টি বিষয়ের পরিবর্তে ১০টি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেয়া হবে। অর্থাৎ তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। বিষয়গুলো হচ্ছে- চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা। আর ২০১৯ সালের এসএসসিতে শারীরিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে শ্রেণি কক্ষে মূল্যায়ন করা হবে। বুধবার বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় পাঠ্যক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজারে দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদদের মতামতের আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বিষয় কমানো সংযোজন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি বছর অন্তর অন্তর এটি হয়। এ ছাড়া সম্প্রতি দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদরা এ ব্যাপারে মতামত দিয়েছে। সভা সূত্র জানায়, জেএসসি ও জেডিসিতে উল্লিখিত তিনটি বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে ৫০ নম্বরের  মধ্যে। এর মধ্যে শারীরিক শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলার ২০ নম্বর তত্ত্বীয় ও ৩০ নম্বর ব্যবহারিক হবে। আর কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষায় ৩০ ন¤॥^র তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ২০ নম্বর হবে। এসব বিষয়ে শ্রেণির কাজ ১৫ (মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা এবং ক্লাস উপস্থিতি পাঁচ নম্বর করে), শ্রেণি অভীক্ষা ২০ (এমসিকিউ ও রচনামূলক ১০ করে) এবং বাড়ির কাজ ও অনুসন্ধানমূলক কাজ (অ্যাসাইনমেন্ট ও অনুশীলন) ১৫ নম্বরের মধ্যে হবে। আর এসএসসিতে শারীরিক শিক্ষা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষার পরীক্ষা আগের মতোই ১০০ নম্বরে নেয়া হবে। এগুলোও শ্রেণির কাজ, বাড়ির কাজ এবং শ্রেণি অভীক্ষা হিসেবে ভাগ করা হবে। বর্তমানে যারা নবম শ্রেণিতে পড়ছে ২০১৯ সালে তাদের এই নিয়মে এসএসসি পরীক্ষা দিতে হবে। শ্রেণি কক্ষে নেয়ার পরীক্ষার নম্বর শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মূল নম্বরপত্রে উল্লেখ থাকবে। কিন্তু ওই নম্বর পরীক্ষার ফলাফলে মূল্যায়ন হবে না। সূত্র আরো জানায়, সভায় নবম-দশম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্রের পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান পাঠ্যবইয়ে থাকা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘নিরীহ বাঙালি’, রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ‘দেনা-পাওনা’, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের পালামৌ, ভারতচন্দ্র রায় গুনাকরের ‘আমার সন্তান’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাণ’, যতীন্দ্র মোহন বাগচীর ‘অন্ধ বধূ’, ফররুখ আহমেদের ‘বৃষ্টি’ বাদ দেয়া হয়েছে।  নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে, মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘পল্লী সাহিত্য’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ ও ‘জুতা আবিষ্কার’, সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘প্রবাস বন্ধু’, হুমায়ূন আহমেদের ‘নিয়তি’, আবদুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’, সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘রানার’ এবং সিকান্দার আবু জাফরের ‘আশা’। প্রসঙ্গত, নবম শ্রেণির বাংলা প্রথমপত্রে ৩১টি গদ্য ও ৩২টি পদ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি কবিতা, সাতটি প্রবন্ধ-আত্মকথা, পাঁচটি গল্প এবং তিনটি উপন্যাস-নাটক বইয়ে যুক্ত করা হয়েছে। আগামী শিক্ষা বর্ষ থেকে নতুন পাঠ্যবই পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের।