চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ৫ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জুনের প্রথম সপ্তাহেই বর্ষার আগমন

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ৫, ২০২২ ২:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: এ বছর বর্ষার মৌসুমি বায়ু আগেভাগেই প্রবেশ করল দেশে। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী শনিবার ছিল জ্যৈষ্ঠ মাসের ২১ তারিখ। অর্থাৎ আষাঢ় আসতে এখনও ৯ দিন বাকি। কিন্তু আবহাওয়ার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ‘বর্ষাকাল চলে এসেছে।’ কারণ যে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষা শুরু হয়, সেই বায়ু এখন সারাদেশে প্রভাব বিস্তার করছে। দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমি বায়ুটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশেই। আর এ কারণে ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও হাল্কা আবার মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ ১২ বছর পর এবার জুনের প্রথম সপ্তাহে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। সেই সঙ্গে নদী বন্দরগুলোকেও ১ নম্বর সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু এখন বিস্তার লাভ করেছে। তাই সারাদেশেই কম-বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এই বায়ুর কারণে আকাশে গভীর সঞ্চারণশীলে মেঘের সৃষ্টি হওয়ায় সমুদ্র এবং নদী বন্দরসহ উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য সমুদ্র ও নদী বন্দরে সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানাচ্ছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা সারাদেশে ইতোমধ্যে বিস্তার লাভ করেছে। ২০১০ সালের পর এবার জুনের ১০ তারিখের আগেই সারাদেশে বর্ষার আগমন ঘটেছে। অথচ বর্ষাকালের বৃষ্টি শুরু হলেও কাগজ-কলমে বর্ষা আসতে এখনও ৯ দিন বাকি।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এবার মোটামুটি স্বাভাবিকভাবেই ৩১ মে বাংলাদেশের উপকূলে পৌঁছে মৌসুমি বায়ু। গত কয়েক বছরের প্রবণতায় দেখা গেছে মৌসুমি বায়ু সারাদেশে বিস্তার লাভ করতে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ কিংবা তৃতীয় সপ্তাহ লেগে যায়। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, এবার একটু আগেই মৌসুমি বায়ু ‘অনসেট’ (বিস্তার লাভ করেছে) হয়েছে। ২০১০ সালের পর এবারই আগে অর্থাৎ ১০ জুনের আগে বিস্তার লাভ করেছে। ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মৌসুমি বায়ু সারাদেশে বিস্তার লাভ করেছে ১০ জুনের পর। গত বছর সারাদেশে মৌসুমি বায়ু বিস্তার লাভ করতে ১৭ জুন পর্যন্ত সময় লেগেছিল। এর আগের বার ২৩ জুন পর্যন্ত লেগেছিল। গত ৩১ মে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূলে আসে। এ উপকূল ধরেই এটি সারাদেশে বিস্তার লাভ করে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানান, মৌসুমি বায়ুর দুটি শাখা রয়েছে। একটি হচ্ছে, আরব সাগরীয় শাখা। অন্যটি বঙ্গোপসাগরীয় শাখা। আরব সাগর শাখার মৌসুমি বায়ু মাদাগাস্কার থেকে গুজরাট ও কেরালা হয়ে ভারতে প্রবেশ করে। মৌসুমি বায়ুর আরেকটি শাখা আরব সাগর থেকে ভারতের ভেতর দিয়ে শ্রীলঙ্কা পার হয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে টেকনাফ উপকূল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মৌসুমি বায়ু জলীয়বাষ্প নিয়ে আসে, যা প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টি হয়ে থাকে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার ওপর বৃষ্টিপাতের মাত্রা নির্ভর করে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হলে বেশি বৃষ্টি হয়, নিষ্ক্রিয় হলে কম বৃষ্টি হয়। এ দিকে, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগেই কম বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে টেকনাফে। ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা কম ছিল। এ সময়ে ঢাকায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশের দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।