চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৬ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগর হাসপাতালে রোগী ও সাংবাদিকদের সাথে ডা. রুবিনার অসদাচারণ

গুরুতর অসুস্থ রোগীকে বের করে দিলেন চিকিৎসক
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ২৬, ২০২২ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যাওয়া এক রোগীর সাথে চরম অবহেলা ও অসদাচারণের অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধ। অভিযোগের বিষয় জানতে মোবাইল করলে ওই চিকিৎসক উপজেলার একজন সিনিয়র সাংবাদিকের সাথেও চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ঘটনায় জীবননগর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, জীবননগর পৌর শহরের হাইস্কুল পাড়ার বাসিন্দা মুন্সী মহাসিন আলী বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বুকে ব্যাথা নিয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। এসময় জরুরি বিভাগে একজন নারী চিকিৎসক কর্মরত ছিলেন। তিনি চিকিৎসককে ব্লাড প্রেশার চেক করার জন্য অনুরোধ করলেও ওই চিকিৎসক পাশে বসে থাকা এক পুরুষের সাথে গল্পে মেতে থাকেন। ১০ মিনিট পার হয়ে গেলেও চিকিৎসক তাঁকে না দেখে ওষুধ কোম্পানির ওই বিক্রয় প্রতিনিধির সাথে কথায় ব্যস্ত থাকেন। এর কারণ জিজ্ঞাসা করায় ডা. রুবিনা আক্তার ওই রোগীর সাথে চরম অসদাচরণ করেন।

ভুক্তভোগী রোগী মহাসিন আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘বুকের ব্যাথা নিয়ে দীর্ঘসময় বসে থাকার পর আবারও ব্লাড প্রেশার মাপার জন্য অনুরোধ করলে চিকিৎসক বলেন, ব্লাড প্রেশার মাপার কাজ আমার না। যিনি মাপবেন তিনি বাইরে গেছেন। তিনি এসে মাপবেন। এ কথায় আমি চিকিৎসকের নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি আচমকা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলতে থাকেন নাম শুনে কী করবি। এমপি টগরকে বলবি তো, বলগে যা। বলে যদি কিছু করতে পারিস, করগে যা। এখান থেকে বের হয়ে যা। এরপর আমি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিই।’ ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক। সরকারি হাসপাতাল থেকে আমার স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ওই চিকিৎসক আমাকে চিকিৎসা না দিয়ে বের করে দিয়েছেন। আমি আজ বৃহস্পতিবার ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিকট লিখিত অভিযোগ দেব।’

অভিযোগের বিষয়টি জানার জন্য একজন সিনিয়র সাংবাদিক মুঠোফোনে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বললে তিনি সাংবাদিকের সাথেও চরম খারাপ আচরণ করেন। এ বিষয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রুবিনা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই সময় আমার মানসিক অবস্থা খারাপ থাকায় সাংবাদিকের সাথে খারাপ আচারণ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, রোগী তাড়াহুড়া করায় তাকে হাসপাতালের সহকারী মেডিকেল অফিসার আসা পর্যন্ত বসতে বলেছিলাম।

জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমান চঞ্চল বলেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য যাদের দায়িত্ব রয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। তিনি আরও বলেন, সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকের সাথে এমন অসদাচারণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় আমি ওই চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. মো. সাজ্জাৎ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি ঢাকাতে রয়েছি। ফিরে এসে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।