চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৭ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগর হরিহরনগরের আদমব্যবসায়ী সাবিলের কান্ড! : ৩ মাসের ভিসা দিয়ে ৩ যুবককে সৌদি পাঠিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ১৭, ২০১৭ ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের আদমব্যবসায়ী সাবিলের ধোকায় পড়ে অনেকে নিঃশ্ব হয়ে পড়েছে। সৌদি আরবে ভাল চাকুরী আর মোটা অংকের বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ৩ মাসের ভিসা দিয়ে প্রতারনা, কাজ না পেয়ে নিজের জীবন বাঁচাতে বাড়ি ফিরে এসেছে অনেকে। জীবননগর উপজেলার ৪নং সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের তিন যুবক মৃত মহিউদ্দিনের ছেলে নুর হোসেন (২৮) মৃত মোস্তফা বিশ্বাসের ছেলে একরামুল হক (২৯) ও আব্দুর গফুরের ছেলে আব্দুর রহমানকে (৩২) সৌদি আরবে মোটা অংকের বেতনে ভাল মানের কাজ দেওয়ার প্রলোভনে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা করে মোট ২১লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সাবিল। নিজে যাতে কোন আইনী ঝামেলায় না পড়ে, সে জন্য আদমব্যবসায়ী সাবিল তিন যুবককের পরিবারের সদস্যদের নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আদম ব্যবসায়ী সাবিলের ধোকায় পড়ে সৌদি ফেরত তিন যুবক তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সঠিক বিচারের জন্য সমাজপ্রতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, সীমান্ত ইউনিয়নের ৫নং ওর্য়াড হরিহরনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের তিন ছেলের মধ্যে কাবিল (৩০) ও রবিল (৪১) দীর্ঘদিন যাবৎ সৌদি থাকেন, আর সাবিল (২৬) নিজ বাড়ি হরিহরনগরেই থাকেন । দুই ভাই সৌদি থাকার সুযোগে সে এলাকায় আদমব্যবসা শুরু করে। সে হরিহরনগরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের বেকার যুবকদের নিকট থেকে সৌদিতে মোটা অংকের বেতনের প্রলোভনে তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রতারণা করে আসছে বলে অভিযোগ ওঠে উঠেছে সাবিলের বিরুদ্ধে।
প্রতারনার শিকার তিন যুবক নুর হোসেন, একরামুল ও আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সাবিল আমাদেরকে সৌদি আরবে ভাল কাজ আর ভাল বেতনের কথা বলে পাঠিয়ে দেয়। সৌদি আরবে যাওয়ার পর সেখানে থাকা সাবিলের দুই ভাই রবিল ও কাবিল আমাদেরকে কোন কাজ না দিয়ে বলে, তোমরা এখানে খাও-দাও ঘুরে বেড়াও। কাজ পেতে কয়েক দিন দেরি হবে। এ ভাবে তিন মাস কেটে গেল। আমরা তিন মাস পরে কাজ দেওয়ার কথা বললে তারা আমাদেরকে নিয়ে যুদ্ধ বিগ্রহ এলাকা ইয়েমেনে বর্ডার সংলগ্ন স্থানে নিয়ে যায় এবং একটি ঘরের ভিতরে আটকিয়ে রাখে এবং প্রতিনিয়িত তারা এক বার করে খাবার দিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। তিনমাস পার হওয়ার পরে আমরা জানতে পারলাম তারা আমাদের তিন মাসের ভিসা দিয়ে সৌদি আরবে পাঠিয়েছে।
এ ব্যাপারে সাবিলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা তাদের সাথে কোন প্রতারণা করেনি তাদের যে কাজ দেওয়ার কথা সেই কাজ দিয়েছি। এখন তারা যদি কাজ করতে না পারে তা হলে আমাদের তো কিছু করার নেই। এ ব্যাপারে সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন মঈনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আদম ব্যবসায়ী সাবিলের বিরুদ্ধে আমি কোন অভিযোগ পায়নি। এ ব্যপারে হরিহরনগর ৫নং ওর্য়াডের মেম্বার আরজাম আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সাবিল কোন আদম ব্যবসা করে না, সে এই গ্রামের বেশ কয়েক জনকে বিদেশে পাঠিয়েছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তাদের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করছে হয়ত তাদের যে কাজ দিয়েছে তারা না পেরে বাড়ি চলে এসেছে। এদিকে সাবিলের এহেন কান্ড দেখে এলাকার সাধারন মানুষ হতবাক।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।