জীবননগর শহরের অলিগলিতে মিলছে মাদক!

211

জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গা জেলার ছোট একটি উপজেলা জীবননগর। এটি সীমান্তবর্তী এলাকা। ফলে মাদক ও চোরাচালানকারীরা এলাকাটিকে মাদকের একটি নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। বর্তমানে প্রশাসন নড়েচড়ে বসায় মাদক চোরাচলানকারীরা অভিনব কায়দায় মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তবে মাদক ব্যবসায়ীরা তাঁদের নিজেদের স্বার্থের জন্য উঠতি বয়সী যুবক, বিভিন্ন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পাশাপাশি গ্রামের নারীদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবা, এমনকি সোনার বড় বড় চালান তাঁদের মাধ্যমে আনা-নেওয়া করছেন। এক সময় জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর, গোয়ালপাড়া, হরিহরনগর ও মেদিনীপুর গ্রামকে মাদকের স্বর্গরাজ্য বলা হলেও এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জীবননগর পৌর শহর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জীবননগর পৌর শহরের কাজীপাড়া, দোয়ারপাড়া, শাপলাকলিপাড়া, মোল্লা মার্কেটসহ বেশকিছু স্থানে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুল-কলেজের ছাত্রসহ উঠতি বয়সের যুবকদের আড্ডার ছলে মাদক গ্রহন। এসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন করা হলেও কেউ প্রতিবাদ করার নেই। আবার হামলায় ভয়ে মাদকসেবীদের সঙ্গে কেউ কথাও বলেন না। তা ছাড়া মাদক সেবনকারীদের ভয়ে এসব এলাকা দিয়ে বিকেলে স্কুল-কলেজের মেয়েদের যাতায়াত চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এমনকি এসব রাস্তা চলাচলের জন্য নিরাপদ বলেও মনে করছেন না অভিভাবকেরা। স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, জীবননগর শহরে যাঁরা মাদক ব্যবসা করছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নামধারী নেতা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, ‘কাজীপাড়ার হাসিনা প্লাজার পেছনে বিকেল হলেই ছেলেরা বসে ফেনসিডিল খায় এবং বাজে বাজে ভাষায় কথাবার্তা বলে। যার ফলে ওই রাস্তা দিয়ে আমাদের প্রাইভেট পড়তে যেতে, অনেক ভয় লাগে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, জীবননগর শহরে দিন দিন যেভাবে মাদক সেবনকারী বেড়ে চলেছে, তা ভাবলেই খারাপ লাগে। এর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কিছু ছেলে জড়িয়ে পড়ায় তাঁদের দাপটে প্রকাশ্যে মাদক সেবন চলে। গ্রামের অনেক সহজ-সরল ছেলে আজ মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তা ছাড়া অনেক জনপ্রতিনিধি আছেন, যাঁরা নিজেরাও মাদক সেবন করেন। এমনকি জনপ্রতিধিরাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্ত ইউপি সদস্য মেদিনীপুর গ্রামের আব্দুল মেম্বার, জাহাঙ্গীর হোসেন, জীবননগর শাপলা প্লাজার সিটু কম্পিউটারের মালিক সিটু, দোয়ারপাড়ার ফারুক ওরফে ডিম ফারুক, পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাকিল, পিট্টু ওরফে ডিস পিট্টু, গোয়ালপাড়া গ্রামের মনু, মনুর নাতি বাপ্পি, হরিহরনগর গ্রামের মশিয়ার, কবির, রাসেল, সোহেল, খয়েরহুদা গ্রামের উত্তরপাড়ার মামুন, কালা গ্রামের দুধবারী, সিংনগর গ্রামের ছোট, সামাদসহ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় থেকে এ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে জীবননগর থানার পুলিশ ও ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬-এর সদস্যরা জীবননগর শহরে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বেশকিছু মুখোশধারী মাদক ব্যবসায়ীকে সমাজের মানুষের কাছে চিহ্নিত করলেও এখন পর্যন্ত বড় বড় রাঘববোয়াল ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন।
এ ব্যাপারে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গনি বলেন, ‘মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই, জীবননগর শহরকে একটি মাদকমুক্ত শহর করার জন্য যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা তা নিয়েছি। যাঁরা এখনো মাদক ব্যবসা করছেন, তাঁদের নামের তালিকা আমাদের কাছে আছে। তাঁরা যদি ভালো না হন, তা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযান চলমান আছে ও থাকবে।’