চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১২ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগর বেনীপুরে মহড়া দিয়ে বাওড় দখল, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা!

মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকায় খাস কালেকশনে দিল প্রশাসন
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ১২, ২০২১ ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বেনীপুর বাওড় নিয়ে যেকোনো সময় সৃষ্টি হতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ধান্যখোলা বাওড়-পাড় সমবায় সমিতি ও বিল বাওড় মৎস্য সমবায় সমিতির মধ্যে বাওড় দখল নিয়ে চলছে চাপা আতঙ্ক। ধান্যখোলা বাওড়-পাড় সমবায় সমিতির দাবি, ইফাদ (ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট) কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৯০’এর দশক হতে এই বাওড় ৫০ বছরের জন্য লিজ নেন বেনীপুরের মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যরা এখনো ২০ বছর বাওড়ে মাছ চাষের অনুমোদন রয়েছে তাঁদের। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন হঠাৎ করে মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বাওড়টি খাস কালেকশনে অন্য একজনকে দিয়েছে। এনিয়ে মৎস্যজীবীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অপরদিকে সমিতি বলছে, আইন মেনে প্রশাসনের কাছ থেকে বাওড়ের ইজারা নিয়েই বাওড়ে নেমেছি। আমরা সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করছি।

প্রশাসন বলছে, ‘হাইকোর্ট থেকে খাস কালেকশনের রায় আছে। বাওড়টির ইজারা দিয়েই এক মাসের জন্য ৪ লাখ ৫০ টাকায় খাস কালেকশনে দেওয়া হয়েছে।

ধান্যখোলা বাওড়পাড় সমবায় সমিতি সভাপতি দীন মুহাম্মাদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা যারা বেনীপুর বাওড়ের সাথে যুক্ত আছি, সবার সংসার চলে মাছ চাষ করে। কিন্তু আমাদের ওপর বেআইনি ও রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করে প্রতিনিয়ত ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বাওড় দখল করে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি ও মামলা দিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাশীন দলের কিছু নেতা-কর্মী। যারা কোনো দিন মাছ চাষ করেনি, যাদের কোনো জেলের কার্ড নেই। শুধুমাত্র টাকার জোরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে বেনীপুর বাওড়টি দখল নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই বাওড়ে আমরা মাছ ছেড়েছি প্রায় ৫০ লাখ টাকার এবং বিলে পুরাতন মাছ আছে প্রায় ৫০ লাখ টাকার, গড়ে এক কোটি টাকার মাছ আছে বাওড়ে। কিন্তু এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় অন্যজনকে এক মাসের জন্য খাস কালেকশনে দিয়ে দিচ্ছে। আমরা যারা কার্ডধারী জেলে আছি, আমরা চলব কীভাবে। যে টাকা আমরা আয় করেছি, তার সব বিলের মধ্যে মাছ ছেড়েছি। আর সেই মাছ মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকায় দিয়ে দিল।’

ধান্যখোলা বাওড়পাড় সমবায় সমিতি সাধারণ সম্পাদক শ্রী পূর্ণ হালদার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা চুয়াডাঙ্গাতে গিয়েছিলাম। এসময় বেনীপুর গ্রামের নবমুসলিম হারুনর রশীদ সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মিল্টন মোল্লাকে সাথে নিয়ে বেনীপুর গ্রামের প্রভাবশালী কয়েকজন এবং জীবননগরের বেশ কিছু ব্যক্তি এসে বাওড়ে নৌকা নামিয়ে চলে গেছে। এবং তারা বেপরোয়াভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে বাওড় নিজেদের কব্জায় নিয়ে বেআইনিভাবে দখল করার চেষ্টা করছে। তারা বলছে, তারা নাকি ডিসি-ইউএনও’র নির্দেশে বাওড় দখল করছে। আমাদের পক্ষে কোর্ট থেকে রায় দিয়েছে, কিন্তু ইউএনও সাহেব সেটা মানছে না। তিনি আমাদের কোনো কথায় শুনছে না। তাহলে কি আমরা কোনো সঠিক বিচার পাব না? যারা বাওড় নিচ্ছে, তাদের অনেকের জেলের কার্ড ভুয়া। এই বাওড় নেওয়ার জন্য টাকা দিচ্ছে অন্য পার্টি। এই বাওড়টা যাতে দখলদারদের হাতে চলে যায়, সেই ব্যবস্থা করছে একটি চক্র। কিন্তু আমারও এই বাওড় ছাড়ব না। এটা রক্ষ করতে যদি আমাদের জীবন দিতে হয়, তবুও আমরা রাজি।’

বিল বাওড় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি হারুন আর রশিদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি নিয়ম অনুসারে বাওড় ইজারা নিয়েছি। আমাদের প্রশাসনিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে বলে আমরা বাওড়ে নেমেছি।’

এবিষয়ে ৪ নম্বর সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মিল্টন মোল্লা বলেন, আমি যতদূর জেনেছি হারুণ অর রশিদ প্রশাসনের কাছ থেকে বাওড়টির ইজারা নিয়েছেন। আমি দখলের জন্য যায়নি। আমি কোনো পক্ষ বা বিপক্ষকে সাপোর্ট করেও যায়নি। আমি নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়েছে। ওই দিন আমি বাওড় এলাকায় ছিলাম, সবাই উৎসবের মতো করে নৌকায় উঠেছিলো। আমাকেও ওঠার আমন্ত্রণ দিলে আমিও নৌকায় উঠি। ছবিও তুলি। মাত্র এতটুকুই।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে রায় দেয় খাস কালেকশন করার জন্য। বিগত যারা ছিল, তাদেরকে ডেকে বলেছি যে তোমরা এক মাসের জন্য খাস কালেকশন যে টাকাটা হয়, সেটি তোমাদের দিতে হবে। কিন্তু তারা বছরে ৭৭ হাজার টাকার বেশি দিবে না বলে জানায়। পরবর্তীতে হারুন অর রশিদকে এক মাসের জন্য ৪ লাখ ৫০ টাকায় খাস কালেকশনে দেওয়া হয়।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ইফাদ অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। আমি উভয়পক্ষকে বলেছিলাম, আইন অনুযায়ী ইজারা নিতে হবে। এমনটিই আদালতের রায়ও আছে। সরকারি কোষাগারের টাকা ফাকি দেওয়া যাবে না। কিন্তু একটি পক্ষ অযৌক্তিকভাবে সরকারকে ফাকি দিতে চাচ্ছে। গত বছরও ৫৩ লাখ টাকার খাস কালেকশনে ইজারা দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু তাঁদের অযৌক্তিক দাবির কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এবার এক মাসের জন্য সাড়ে চার লাখ টাকা খাস কালেকশনে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বার বার অযৌক্তিক দাবি করছে। বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মহোদয় জানেন। তিনি আগামী ১৭ তারিখে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসবেন। আশা করি, বিষয়টির মিমাংসা হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।