চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১২ নভেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগর গঙ্গাদাশপুরে আবারও বিরোধপূর্ণ জমিজায়গা নিয়ে ভূমিহীন ও জোয়ার্দ্দার গ্রুপের সংঘর্ষ রক্তাক্ত জখম ২ : গ্রেফতার ১ : গ্রামবাসীর নিরাপত্তাই পুলিশি টহল জোরদার

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ১২, ২০১৬ ১২:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

biplob

শহর প্রতিবেদক/জীবননগর প্রতিনিধি: জীবননগর উপজেলার বিরোধপূর্ণ জমিজায়গাকে কেন্দ্র করে একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দীর্ঘদিন থম থমে অবস্থায় আবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গঙ্গাদাশপুর গ্রামে দীর্ঘদিন যাবৎ ১১৬বিঘা জমি নিয়ে ভূমিহীন ও জোয়ার্দ্দার দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে এক পর্যায় জোয়ার্দ্দার গ্র“পর হাতে ভূমিহীন পরিবারের দুই সদস্য সাহাবউদ্দিন এবং মোহাম্মদ আলী নামের দুই জনকে বোমা মেরে হত্যা করে। তাতে ভূমিহীন পরিবারের সাহাবউদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলীর ভাই বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে ইতোমধ্যেই জোয়ার্দ্দার গ্রুপের বেশ কিছু ব্যক্তি হাজত খেটে জামিনে বাড়ি আসে সেই ঘটনার পর থেকে জোয়ার্দ্দার গ্রুপের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। সাধারন মানুষের নিরাপত্তার সাথে পুলিশ প্রশাসন গঙ্গাদাশপুর একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হয়। কয়েক মাস অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকায় এলাকার সাধারন মানুষ নিশ্চিতায় বসবাস করত। কয়েক মাস পরেই বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন নির্বাচন হওয়ায় এবং গ্রামে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করায় গঙ্গাদাশপুর থেকে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই এলাকার সাধারন মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করতে থাকে। দিন যেতে না যেতেই আবারও গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় জোয়ার্দ্দার গ্র“পের মৃত সদর আলীর ছেলে জামাত আলী (৪৩) জমিতে কলাই কাটতে গেলে ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা তাকে নিষেধ করে একপর্যায় কথাকাটা কাটির এক পর্যায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এতে জামাত আলী ও ভূমিহীন পরিবারের নিহত সাহাবউদ্দিনের ছেলে বিপ¬বকে  (২৫) কুপিয়ে  আহত করে। আহত অবস্থায় দুই জনকে জীবননগর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে আহত দুই ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিপ¬বকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন এবং জামাত আলীকে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী থেকে জানা গেছে জামাত আলী গতকাল তার জমিতে কলাই কাটার জন্য গেলে তাকে ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা কলাই কাটতে নিষেধ করেন তিনি কোন কথা না শুনে তিনার ইচ্ছা মত কলাই কাটতে থাকে এবং তিনি বলেন আমাকে কলাই কাটতে ইউএন ও স্যার বলেছে বলেই আমি কলাই কাটতে এসেছি তখন ভূমিহীন পরিবারের বিপ¬বসহ বেশ কয়েকজন যুবক তাকে বলে ইউএনও স্যার আমাদের বললে তাই আমরা কলাই কাটতে দেব তা না হলে কলাই কাটতে দেব না এক পর্যায় দুই জনেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং জামাত আলীর হাতে কলাই কাটা হাসুয়া দিয়ে বিপ¬বকে কোপ মারে পরবর্তীতে বিপ¬বের সাথে থাকা যুবকরা জামাত আলীকে কুপিয়ে আহত করে গ্রামের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সামনে রাখে এবং এই ঘটনা শোনার পরেই জীবননগর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনা স্থানে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করে এবং আহত জামাত আলীকে জীবননগর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। এদিকে আহত জামাত আলীর ছেলে বাসার ও তার স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন আমার স্বামী গ্রামে গিয়েছে ইউএনও স্যারকে বলে তিনি বলেছেন তোমার জমি তুমি চাষ কর কোন সমস্য নেই কিন্তু গতকাল সকালে আমার স্বামী বাড়ি থেকে মাঠে কলাই কাটার জন্য গেলে  আশিক, রাজন, বিপ্ল¬বসহ বেশ কয়েকজন মিলে আমার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করে। এ ব্যাপারে আহত বিপ্লবের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি মাঠে গিয়েছিলাম তখন আমাকে একা পেয়ে জামাত আলী আমাকে হাসুয়া দিয়ে কোপ মারে। এক পর্যায় আমার জীবন বাঁচানোর জন্য চিৎকার করলে পাশের এক জমিতে আমার ভাইসহ বেশ কয়েকজন কাজ করা অবস্থায় ছুটে আসে এবং আমাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল হাফিজের সাথে  ০১৭১১০৭১৯২৯ কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি রিসিভ হয়নি। এ ব্যাপারে জীবননগর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহিনা আফরিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন গঙ্গাদাশপুর গ্রাম থেকে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় মৃত সাহাবউদ্দিনের ছেলে বিপ্ল¬বকে হাসপাতালে আনলে তাকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এবং একই গ্রামের মৃত সদও আলীর ছেলে জামাত আলীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে তাকেও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোল¬া জাকিরের সাথে কথা বললে তিনি বলেন  সংঘর্ষের এ ঘটনায় মৃত সাহাবউদ্দিনের ছেলে চনচল নামের এক জনকে জিঙ্গাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনে বলেন এখনও পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি তবে এলাকাবাসীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গঙ্গাদাশপুর গ্রামে পুলিশের একটি টিম দেওয়া হয়েছে। এদিকে সীমান্ত ইউনিয়নের গঙ্গাদাশপুর গ্রামে আর কত জীবন গেলে শেষ হবে এই  জমিজমা নিয়ে বিরোধ নাকি আদেও মিটবে না ? এমনটিই প্রশ্ন সুধি মহলের।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।