জীবননগর আদর্শ ক্লিনিকে দুই মাথা বিশিষ্ট শিশুর জন্ম ক্লিনিকে হাজারো মানুষের ঢল

683

14713762_1682788905382539_1687998839744262941_n

মিথুন মাহমুদ: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা সদরে একটি ক্লিনিক ও নার্সিং হোমে বুধবার সকালে পেট জোড়া লাগা জমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। পেট জোড়া লাগা জমজ মেয়ে শিশুর জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিকে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। অবস্থা বেগতিক দেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ক্লিনিকটি সাময়িক ভাবে সাধারণের প্রবেশ রোধ করতে সদর গেট বন্ধ করে দেয়। পেট জোড়া লাগা শিশু দুইটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে  পরিবারটি হতদরিদ্র হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। তাদের পক্ষে চিকিৎসা খরচ চালানো তো দুরের কথা ঢাকায় নেয়ায় দায় হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে পরিবারটি সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন। উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের মুকুল হোসেন জানান, তার স্ত্রী সীমা খাতুনের ব্যাথা শুরু হলে তাকে বুধবার সকালে আদর্শ ক্লিনিকে ভর্তি করি। ডাক্তার তাকে অপারেশনের মাধ্যমে বাঁচ্চা প্রসব করানোর পরামর্শ দিলে আমরা তাতে রাজি হয়ে যাই। সকাল সাড়ে আটটার দিকে অপারেশন করে পেট জোড়া লাগা দুইটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। শিশু দুইটির এ অবস্থা দেখে আমরা হতবাক হয়ে পড়ি। আমার স্ত্রীর পেটে সন্তান থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকবার আল্ট্রাসনো করেছি। কিন্তু এমন অবস্থা ধরা পড়েনি। আমাদের দাম্পত্য জীবনে এটাই প্রথম সন্তান। তিনি বলেন আমরা গরীব মানুষ, কিভাবে এখন চিকিৎসা চালাবো?  ক্লিনিক মালিক সাব্বির আহমেদ বলেন, প্রসূতি সীমা খাতুনকে তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের ক্লিনিক  বুধবার সকালে ভর্তি করেন। আমরা সব কিছু ঠিক করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের ডা.মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতুর মাধ্যমে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে সিজারের মাধ্যমে পেট জোড়া লাগা জমজ মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। জমজ শিশু দুইটি ও তাদের মা এখন পুরোপুরি সুস্থ্য রয়েছে। এমন শিশুর জন্ম এ উপজেলায় আমার জানামতে এটাই প্রথম। যে কারণে আমরা প্রথম দিকে একটু হতবাক হয়ে পড়ি।  জোড়া লাগা জমজ শিশুর পৃথিকীকরণ ব্যবস্থা জেলার কোন হাসপাতালে থাকায় তাদেরকে পৃথিকরণ ও উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু বলেন, আমি আদর্শ ক্লিনিকে গিয়ে সীমা খাতুন নামের প্রসুতিকে অপারেশন করি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুইটি জমজ কন্যা শিশুর জন্ম হওয়ায় আমিও হতবাক হয়ে পড়ি। কারণ এ ধরণের শিশুর জন্ম আমার জীবনে প্রথম অপারেশন। এই মূহুর্তে করণীয় হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব জমজ বাঁচ্চা দুইটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ কিম্বা পিজি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা। সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আছে। এসব অস্বাভাবিক বাচ্চার ব্যাপারে সেখানকার ডাক্তাররা খুব আন্তরিক হন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে শিশুর পরিবারটি অত্যন্ত গরীব হওয়ায় তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাচ্ছেন। সীমান্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন ময়েন বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। মুকুল আমার গ্রামেরই ছেলে। সে গরীব মানুষ। তার পক্ষে পেট জোড়া লাগা জমজ শিশুর খরচ চালানো কোন ভাবেই সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সরকারী-বেসরকারী সহযোগীতার পাশাপাশি সমাজের প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।