জীবননগরে স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানী, বখাটে গ্রেপ্তার

533

প্রতিবেদক, মনোহরপুর:
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জীবননগর উপজেলার মনোহরপুরের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে অনিক হাসান (১৬) নামের এক বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকাল নয়টার দিকে জীবননগরের মনোহরপুর গ্রামের মল্লিক বাড়ির সামনে এ মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। বখাটে অনিক জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের কিরণ মল্লিক ও নবনির্বাচিত মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রসুলের ভাইপো। অনিক মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
মামলার এজাহার ও স্কুলছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে বখাটে অনিক মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে রাস্তা-ঘাটে উত্ত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। অনিক এলাকার প্রভাবশালী নেতার ভাইপো হওয়ায় স্কুলছাত্রীর পরিবার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছিল না। গতকাল বুধবার সকাল নয়টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুবের নিকট প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফিরছিল। সে মনোহরপুর গ্রামের মল্লিক বাড়ির নিকট পৌঁছালে বখাটে অনিক তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় স্কুলছাত্রী প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অনিক তাকে প্রকাশ্যে প্রথমে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারে এবং পরে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলেও বখাটে অনিক মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির গোলাম রসুলের ভাইপো হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। পরে স্থানীয় লোকজন ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে ছাত্রীর অভিভাবককে জানান এবং জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিকেলে ওই স্কুলছাত্রী বাড়ি ফিরে আসে। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি মামলা করেন।
স্কুলছাত্রীর মা দৈনিক সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘আমার মেয়েটা পড়ালেখায় খুব ভালো হওয়ায় খুব কষ্টে করে কোচিং ও প্রাইভেট পড়িয়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করানোর চেষ্টা করছি। কয়েক মাস ধরে ওই বখাটে মাদকাসক্ত অনিক আমার মেয়েকে রাস্তা-ঘাটে বিরক্ত করছিল। তার চাচা মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হওয়ায় আমরা একরকম ভয়ের মধ্যেই ছিলাম। মেয়েটাকে রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে। ওকে হাসপাতালে নিয়েছি। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় থানায় মামলা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে ওই মাদকাসক্ত বখাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে অন্য কোনো বখাটে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ ধরনের কাজ আর করতে না পারে।’
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মেহবুবা বলেন, ‘সকাল সাড়ে দশটার দিকে এক স্কুলছাত্রী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিকেলে বাড়ি ফিরেছে সে।’
জীবননগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই থানায় মামলা নেওয়া হয়। মামলার একমাত্র আসামি মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে এলাকার সুধীজনের দাবি, প্রকাশে দিবালোকে এ ধরনের মারধরসহ শ্লীলতাহানি খুবই ন্যক্কারজনক। এসব বখাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা হলে সমাজে খুন-ধর্ষণ-ইভ টিজিংয়ের মতো ঘটনা আর ঘটবে না, এমনটিই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।