চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৪ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগরে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় বিয়ের বিশ দিনের মাথায় তৃতীয় স্ত্রী শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ : ধামাচাপা দিতে দৌড়ঝাঁপ

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৪, ২০১৭ ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগরে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় বিয়ের বিশ দিনের মাথায় তৃতীয় স্ত্রী
শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ : ধামাচাপা দিতে দৌড়ঝাঁপ
জীবননগর অফিস: জীবননগরে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় বিয়ের বিশ দিনের মাথায় নববধুকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যা করার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য গলায় দড়ি দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে বিয়ে পাগল স্বামী সামাউল, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জনে সবাই আছে ধন্দে।
জানা গেছে, গত সোমবার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ গ্রামে রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকায় অপপ্রচার চালাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাদের সে অপপ্রচার কোন কাজে আসেনি। অবশেষে গত মঙ্গলবার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা মর্গে পাঠান। সরেজমিনে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের ঘুষিপাড়ার আরজুল্লাহর ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রী সামউল হক (২৭) ইতোমধ্যেই সে অল্পবয়সে একে একে তিনটি বিয়ে করে এলাকায় বিয়ে পাগল নামে পরিচিত লাভ করে। বিয়ে পাগল সামাউল প্রথম ভালবাসা করে বিয়ে করেন জীবননগর পৌরসভার ২নং ওর্য়াড নারায়নপুর সরকারপাড়ায়, দ্বিতীয় বিয়ে করেন নিজ গ্রাম হাসাদহে এবং সর্বশেষ  ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামের দিনমুজুর সুজাউদ্দিনের মেয়ে নাবালিকা বৈশাখীকে (১৭) বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে যৌতুকসহ নানা জিনিসপত্র দাবি করে, দিতে না পারায় বৈশাখীর উপর নানা ধরনের অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকে। তাদের এই অসহনীয় নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় বৈশাখী। একপর্যায় স্বামীর ঘরে লাশ হতে হল নববধু বৈশাখীর। প্রতিবেশীরা ঘরের ফ্যানের সাথে নববধুর ঝুলন্ত লাশ হতবাক হয়ে পড়েন। এ সময় বিয়ে পাগল স্বামী সামাউল নিজেকে আড়াল করতে এবং নিজের দোষ ঢাকতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।
এ ব্যাপারে হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না আমি বলতে পারব না, তবে তার লাশটি ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেছে এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে জীবননগর থানার (ওসি) তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, হাসাদহের যে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জীবননগর থানায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেছে।
নববধুর মৃত্যু নিয়ে গোটা এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। এদিকে নিহত নববধুর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গত বুধবার দাফনকার্য সম্পন্ন হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।