চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৭ মে ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগরে যৌতুকের টাকার জন্য সন্তানকে জিম্মি, গৃহবধূকে তালাক!

সমীকরণ প্রতিবেদন
মে ৭, ২০২০ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগর অফিস:
জীবননগরে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় সন্তানকে জিম্মি করে গৃহবধূকে জোরপূর্বক তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও ননদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২ মে) সকালে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে গয়েশপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে বাপ্পারাজ এবং একই গ্রামের মাহাবুলের মেয়ে মাবিয়া খাতুনের সঙ্গে প্রেম আলাপের মাধ্যমে বিবাহ হয়। বর্তমান তাঁদের কোলে একটি এক বছরের শিশুসন্তান আছে। এ বিবাহটা ছেলের বোন নাজমা খাতুন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা মেনে নিতে অপরাগত জানান। বিয়ের এক বছর পর থেকে যৌতুকের টাকা চাইলে মেয়ের বাবার পক্ষে টাকা না দেওয়ায় মেয়ের ওপর অস্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে ছেলের পরিবারের লোকজন।
গৃহবধূ মাবিয়া খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবা একজন দরিদ্র ব্যক্তি। বিয়ের পর আমার স্বামীর চাকরির জন্য আমার বাবা তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছে। আবার সে টাকার জন্য আমাকে চাপ দেয়। আমার বাবা একজন দিনমজুর। বারবার টাকা কোথায় পাবে, এ জন্য টাকা দিতে আমি অপারগতা জানালে আমার ননদ নাজমা খাতুন এবং আমার স্বামী আমাকে দিন-রাত মারধর করতে থাকে। আমার সন্তানের মুখ পানে তাকিয়ে তাদের সব নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করে আসছি। একপর্যায় আমার ননদ এবং গ্রামের রাজা মাতাল মিলে আমার সন্তানকে জিম্মি করে বলে, যদি তুই আমার ভাইকে তালাক না দিস, তাহলে তোর সন্তানকে হত্যা করা হবে। এ কথা বলে আমাকে তারা জোরপূর্বক তালাকনামায় সাক্ষর করে তালাক দিয়ে দেয়। এখন আমার সন্তানকে নিয়ে আমি অসহায়ের মধ্যে দিনযাপন করছি।’
বাপ্পারাজের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে জিম্মি করে তালাক দিব কেন। সে আমার মাকে মারধর করেছে। এ জন্য তাকে মেরে ছিলাম। এরপর সে আমার বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে আমাকে তালাক দিয়েছে। আর আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর মিথ্যা অভিযোগ করছে।’
সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন বলেন, গয়েশপুর গ্রামের মাবিয়া নামের এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য মারধর করাসহ তাকে জোরপূর্বক তালাকনামায় সাক্ষর করে নেওয়ার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত করে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।