জীবননগরে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম!

262

জীবননগর অফিস: জীবননগরে যৌতুক দিতে না পারায় গৃহবধুকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার হাসাদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার হাসাদহ গ্রামের দিনমজুর ফরজ আলীর মেয়ে আমেনা খাতুনের (২২) সাথে একই উপজেলার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের লাবুর ছেলে রবিউল ইসলামের গত তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে মেয়ের বাবার কাছে যৌতুকের দাবি করে আসছে ছেলে পক্ষের পরিবার। কিন্তু মেয়ের বাবা হতদরিদ্র হওয়ায় যৌতুকের টাকা দিতে অপরাগতা জানালে মেয়ের উপর শুরু হয় অত্যাচার। স্ত্রীর উপর অত্যাচার করার প্রতিবাদ জানালে ছেলেকেও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে। নির্যাতিত গৃহবধু আমেনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমার শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও চাচা শ্বশুর প্রতিনিয়ত আমার উপর কারণে অকারণে অত্যাচার করে। আমার বাবার কাছে যৌতুকের টাকা চাইলে আমি দিতে অপরাগতা জানালে রবিবার সকালে আমাকে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে আমার স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করে আহত করে। এ সময় বাড়ির পাাশের লোকজন ছুটে এসে আমাকে আহত অবস্থায় জীবননগর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। গৃহবধু আমেনার স্বামী রবিউল ইসলাম জানান, আমার স্ত্রীর উপর শুধু বাবা-মা নয় আমার চাচা সাজ্জাদ হোসেনও মারধর করে। শুধু আমার স্ত্রী নয় তারা আমাকেও মারধর করে। তাদের ভয়তে আমি কোন প্রতিবাদ করতে পারি না। সাজ্জাদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমি গতকাল সকালে বাড়িতে বসেছিলাম এমন সময় দেখি আমেনা আমার ভাই ও ভাবিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। এমন কি আমার ভাবিকে সে মারধর করতে যাচ্ছে। এ সময় আমি ছুটে যেয়ে তাকে একটা চড়মারি। তাছাড়া যৌতুকের বিষয় যা বলেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গতকাল সকালে আমেনা নামের গৃহবধু আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এখন সে সুস্থ।