চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৩১ মে ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগরে ভূমিহীন নারীকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

সমীকরণ প্রতিবেদন
মে ৩১, ২০২১ ৯:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগর অফিস:
জীবননগরে ভুয়া ক্লাবের নাম করে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত সরকারি খাস জমি দখল নিয়ে মাছ চাষ করে অর্থ আয় করে আসছে একটি মহল। সরকারি খাস জমির পুকুর পাড়ে ঘর বেধে থাকার অপরাধে অসহায় গৃহহীন ছকিনাকে পিটিয়ে রক্তাত্ব জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গত শনিবার সন্ধ্যায় জীবননগর উপজেলার ৪ নম্বর সীমান্ত ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে ঘটেছে। আহত ছকিনা খাতুন (৪০) যাদবপুর গ্রামের মৃত মান্দর মণ্ডলের মেয়ে।
স্থানীয় ও প্রত্যাক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে মৃত মান্দর মণ্ডলের মেয়ে ছকিনা খাতুন ও তাঁর তিন বোন যাদবপুর করতোয়া নদীর পাড়ে দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর যাবত বসবাস করে আসছেন। কিন্তু করতোয়া নদী পুনরায় খননের কারণে বসতঘর সরিয়ে নেন এবং নদী খননের কাজ শেষ হলে তিনি আগের বসত স্থানে ফিরে গেল বসবাস করার মতো জায়গা না পেয়ে পাশের স্থানে ঘর বাধতে গেলে যাদবপুর গ্রামের আ. হামিদ ও তাঁর ছেলে জুয়েল ভূমিহীন ছকিনা খাতুন ও তাঁর পরিবারের ওপরে লাঠি-সোটা নিয়ে আক্রমণ করেন। এতে ছকিনা খাতুন রক্তাত্ব জখন হন। এসময় গ্রামের লোকজন আহত ছকিনা খাতুনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিযোগ করে বলেন, আ. হামিদ দীর্ঘদিন যাবত যাদবপুর গ্রামে ভুয়া ক্লাবের নাম করে সরকারি খাস জমি দখল করে মাছচাষ করে আসছেন। এখন তাঁর সাথে যুক্ত হয়েছেন তাঁর ছেলে জুয়েল। তাঁরা ক্ষমতার জোরে অসহায় ভূমিহীন নারীর প্রতি অমানসিক অত্যাচার করে পুকুর পাড় থেকে সরিয়ে দিয়ে নিজেরা দখল করতে চায়। অসহায় ভূমিহীন ছকিনার কেউ না থাকায় তাঁর প্রতি যে অত্যাচার করা হয়েছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার, যাতে পরবর্তীতে এমন অন্যায় কেউ না করে।
এবিষয়ে জুয়েলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা যাদবপুর গ্রামের ক্লাবের সদস্য, সে কারণে দীর্ঘদিন যাবত পুকুরে মাছ চাষ করে আসছি। ছকিনাও সেখানে বসবাস করে আসছে। কিন্তু করতোয়া নদী পুনঃখনন করার কারণে পুকুরের আয়তন ছোট হয়ে গেছে। এ জন্য ছকিনাকে সেখান থেকে সরে যেতে বললে সে যেতে চায় না। সে কারণে একটু ঝামেলা হয়েছিল, সেটা আমরা মিটিয়ে ফেলেছি।’
৪ নম্বর সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন মঈন বলেন, ‘ভূমিহীন ছকিনা খাতুন দীর্ঘদিন সরকারি জমির পুকুর পাড়ে বসবাস করে আসছে, এটা আমি জানি। তাকে মারধর করা হয়েছে, এ বিষয়টাও আমি শুনেছি। তাকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে।’
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ হাসান বলেন, আহত ছকিনা খাতুনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন সুস্থ। জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যাদবপুর গ্রামে জমি নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছিল, এ বিষয়টি দুপক্ষ বসে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।