চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১৬ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগরে ব্লাঙ্ক চেক নিয়ে আইনি খেলায় যার পেশা, সাধারণ মানুষকে হয়রানি

প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা!
জীবননগর অফিস:
নভেম্বর ১৬, ২০২১ ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভুয়া চেক প্রত্যাখ্যানের (ডিজঅনার) মামলা ঠুকে দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করানো তাঁর পেশা। সাধারণ মানুষের সাথে মিশে তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে কারো বিদেশে পাঠানোর নাম করে টাকা নেওয়া আবার কারো চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া প্রমাণ স্বরুপ নিজের কাছে রাখেন স্বাক্ষর করা খালি চেকের পাতা। এলাকার সবাই তাঁকে প্রতারক বলে জানেন। তাঁর নাম মো.আরাফাত, বাবার নাম মৃত শাজাহান আলী। বাড়ি জীবননগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড দৌলৎগঞ্জপাড়ায়। দেখতে পরহেজগার মনে হলেও লেবাস দিয়ে তিনি মানুষের বোকা বানিয়ে ধোকা দিয়ে টাকা আয় করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতারক আরাফাতের শিকার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মৃত দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে শাহীন উদ্দিন। শাহিন উদ্দিন ২০১২ সালে জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের বাঁকা মাঠ পাড়ার চিহ্নিত আদম ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন দুদুর মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে দুবাই যান। এর মধ্যে আদম ব্যবসায়ী দুদুকে নগদ ১ লাখ টাকা দেয় এবং বাকি টাকার জন্য দুদুর নিকট একটি চেকের পাতা জামানত হিসেবে দিয়ে যান। পরবর্তীতে শাহিন দুবাই থেকে বাকি ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন দুদুর। দুদুর টাকা পরিশোধ হলেও শাহিনের স্বাক্ষর করা চেকের একটি পাতা দুদুর কাছে থেকে যায়। পরে দুদুর যোগসাজসে প্রতারক আরাফাত ৮ লাখ টাকা দাবি করে ভুয়া চেকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেন শাহিনকে। শাহিন দুবাই থাকলেও তাঁর নামে কোর্ট থেকে ওয়ারেন্ট বের করেন প্রতারক আরাফাত।

প্রবাসী শাহিন বলেন, ‘আমি ২০১২ সালে দুদুর মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে দুবাই আসি। সে সময় আমি দুদুকে নগদ ১ লাখ টাকা দিয়েছিলাম, বাকি ৮০ হাজার টাকার জন্য দুদু আমার নিকট থেকে একটি চেকের পাতা জমা রাখে। পরবর্তীতে দুদুর বাকি ৮০ হাজার টাকা আমি পরিশোধ করি। কিন্তু দুবাই থাকার কারণে তার নিকট থেকে চেকের পাতাটা আমি নিতে পারিনি। তা ছাড়া আমার বিরুদ্ধে আরাফাত যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ আমার সাথে আরাফাতের কোনো সম্পর্ক নেই। আরাফাতের সাথে দুদুর সম্পর্ক থাকতে পারে। চেক আমি দুদুকে দিয়েছি, আরাফাতকে আমি চেক দিইনি। আরাফাত এখন আমার নামে কোর্টে মিথ্যা মামলা করে টাকা হাতানোর চেষ্টা করছে।’

আদম ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন দুদুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘শাহিনের নিকট আমি ৮০ হাজার টাকা পেতাম। সে আমার টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে। শাহিন যে চেকটা আমার নিকট দিয়েছিল, সেটা আমার কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। শাহিনের সাথে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন নেই।’
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারক আরাফাত রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ জীবননগর ডিগ্রি কলেজে হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১১ সালে জীবননগর ডিগ্রি কলেজের ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে তাঁর চাকরি চলে যায়। সেই থেকে প্রতারক আরাফাত রহমান দীর্ঘদিন জীবননগর থেকে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। হঠাৎ আবারও বিভিন্ন ফন্দি-ফিকির করে জাকের পার্টির একজন নেতা পরিচয়ে জীবননগর শহরে আস্তানা গড়ে বসেছেন এবং এলাকার সাধারণ নিরীহ মানুষদের মিথ্যা মামলা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।

প্রতারক আরাফাত রহমান বলেন, ‘শাহিন আমাকে ইতালি পাঠানোর নাম করে আমার নিকট থেকে ৮ লাখ টাকা গ্রহণ করে। সে হিসেবে প্রমাণ স্বরুপ সে আমার নিকট একটা চেকের পাতা রেখে যায়। টাকা দেওয়ার সময় আমার সঙ্গে মালেক ছিল। আমার টাকা ফেরত না দেওয়ায় আমি শাহিনের নামে কোর্টে মামলা করি।’
এ ব্যাপারে আ. মালেকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আরাফাত কখন টাকা দিয়েছে শাহিনের কাছে, এটা আমি জানি না। কী জন্য টাকা দিয়েছে, সেটাও আমি জানি না।’ এদিকে, প্রতারক আরাফাতের প্রতারণায় এলাকার সাধারণ মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।