চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগরে বিলুপ্তির পথে কুমার শিল্প সম্প্রাদায়

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭ ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ/ ডাবলু: জীবননগরে কুমার শিল্প নানামুখী সংকটে বিলুপ্তি হওয়ার পথে। ফলে পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎগুলো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেকে পুর্বপুরুষের এ পেশা ধরে থাকলেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক সময়ে কর্মব্যস্ত কুমারপাড়ায় এখন শুধুই নিরবতা। মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমতে থাকায় প্রাচীন শিল্পটি এখন বিলুপ্তির পথে। দিন দিন আধুনিক জিনিসপত্রের ভীড়ে বিলীন হতে বসেছে বাঙ্গালী জীবনের হাজার বছরের ঐতিহ্যবহনকারী মাটির তৈরি সামগ্রী। স্টিল, চিনামাটি, মেলামাইন ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বাজারে আসার পর মানুষ আর মাটির তৈরি হাঁড়ি, থালা, মাটির তৈরি ব্যাংক ও খেলার সামগ্রী ইত্যাদি ব্যবহার করছেন না। শুধুমাত্র গবাদিপশুর খাবার পাত্র ডাবা,কলস,খেৎুরের গুড় ও রসের জন্য ভাড় সহ হিন্দুদের পুজা পার্বনের জন্য নিমির্ত কিছু সামগ্রির চাহিদা রয়েছে। গ্রামগঞ্জের অনেক মানুষ অবশ্য এখনও দৈনন্দিন প্রয়োজনে কিছু মাটির তৈরি পাত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু মাটির তৈরি শোখিন জিনিসপত্রের বাজার চাহিদা তেমন একটা নেই বললেই চলে। ফলে কুমার সম্প্রাদয়ের সদস্যরা বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর, দেহাটিও বকেনডিয়া গ্রামের কুমার পাড়ায় প্রায় ১’শ পরিবার এ পেশার সাথে জড়িত ছিল। ভৈরব নদী ও ফসলের জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করে নাওয়া খাওয়া ভুলে মাটির তৈরি বিভিন্ন ধরনের রকমারী সামগ্রী তৈরির কাজে সারাদিন ব্যস্থ থাকতেন কুমার শিল্পীরা। তবে কিছু বছরের ব্যবধানে প্রায় ৭০টি পরিবার এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। মনোহরপুর গ্রামের বরুন পাল, সিদাম চন্দ্র পাল বলেন, যুগ যুগ ধরে বংশ পরস্পরায় আমরা মাটির তৈরি জিনিসপত্র তৈরি করে আসছি। এ পেশার সাথে আমরা জড়িয়ে থাকলেও আমাদের উন্নয়ন বা আর্থিক সহায়তায় সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় বিভিন্ন এনজিও সমিতির নিকট থেকে রিন নিয়ে বাপ-দাদার আমলের পেশাটা কোন রকম ধরে আছি। তিনি আরও বলেন সরকার যদি আমাদের কোন রকম সহজ স্বর্থে রিন পাওয়ার ব্যবস্থা করত, তা হলে এই শিল্পকে উন্নয়নের পাশাপাশি আরও সমৃদ্ধ করতে পারতাম। দেহাটি গ্রামের কুমার শিল্প সুনীল পাল, অমিত পাল, রবিন পাল জানান, ভৈরব নদী থেকে এক সময় মাটি সংগ্রহ করা গেলেও এখন মাটি ক্রয় করতে হয়। তাছাড়া জালানীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। দিনদিন চাহিদা কমতে থাকায় এখন আমাদের এ পেশায় থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বংশীয় রীতি মতে এ পেশায় থাকলেও নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। যুক্ত হচ্ছে ভিন্ন পেশায়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।