চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৩০ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জীবননগরে বন বিভাগের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দরপত্র ছাড়ায় লাখ লাখ টাকার গাছ বিক্রি!
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ৩০, ২০২২ ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগর অফিস: জীবননগর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে দরপত্র ছাড়া রাস্তার পাশে সামাজিক বনায়নের লাখ লাখ টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সমিতির সদস্যদের না জানিয়ে মো. আনারুল ইসলামকে সমিতির ভুয়া সভাপতি বানিয়ে দরপত্র ছাড়া দুই কিলোমিটার  সড়কের পাশের গাছ বিক্রি করেছেন জীবননগর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম কাজল বলে অভিযোগ উঠেছ। কত টাকায় গাছ বিক্রি হয়েছে এবং কে গাছগুলো কিনেছেন, আর কত টাকা সদস্যরা পাবেন, তার কোনো হিসাব দেননি এই কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এখন পর্যন্ত এই টাকার ভাগ সমিতির কোনো সদস্যকে দেওয়া হয়নি। এছাড়া সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদও পায়নি কোনো অর্থ। এনিয়ে চলছে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

আবার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল গাছ বিক্রির সময় সমিতির সভাপতি করেছিলেন বেনীপুর গ্রামের মো. আনারুল ইসলামকে। আবার গাছ বিক্রি শেষে নিজের দায় এড়াতে এবং গাছ বিক্রির বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সভাপতি করেছেন হরিহরনগর গ্রামের মিঠুকে। এ ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক।

সামাজিক বনায়নের সদস্য আব্দুল ওহাব অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা ছিলাম এই কমিটির সদস্য, অথচ রাস্তার পাশে সমস্ত গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন কাজল সাহেব, আমরা কিছুই জানি না। এমনকি গাছ বিক্রি কীভাবে করেছেন, সেটাও আমাদের জানাননি। কাজল সাহেব তার সুবিধামতো লোক নিয়ে লাখ লাখ টাকায় গাছ বিক্রি করলেও তার কোনো হদিস নেই।’

সামাজিক বনায়নের নামমাত্র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মো. আনারুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রি করেছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা কাজল সাহেব। তিনি আমাকে বলেছে গাছ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। আমি তো সভাপতি না, এই টাকা সব সভাপতি মিঠুর কাছে আছে।’

এ বিষয়ে সভাপতি মিঠুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘গাছ বিক্রির বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। এমনকি আমি যে সভাপতি সেটায় জানতাম না। কত টাকায় গাছ বিক্রি হয়েছে, সেটা বন বিভাগের কর্মকর্তা জানে। আমার কাছে কিছু টাকা দিয়েছে। এই টাকা নিয়ে একটু ঝামেলার জন্য এখনও ভাগাভাগি হয়নি।’

এবিষয়ে সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসাবুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ‘হরিহরনগর থেকে যাদবপুর গ্রাম পর্যন্ত সামাজিক বনায়নের যে গাছ ছিল, তা অনেক দামি দামি গাছ। সেগুলো বন বিভাগের কর্মকর্তা তার ইচ্ছামতো লোক নিয়ে বিক্রি করেছে। কত টাকায় বিক্রি করেছে, সেটা এই সমিতির কেউ জানে না। আমাদের পরিষদের কোনো অর্থ এখনও দেয়নি। তিনি যে হিসাব দেখাচ্ছে, তা সঠিক নয়। দুই কিলোমিটার গাছের দাম দেখাচ্ছে মাত্র ৬০ হাজার টাকা। এটা একেবারে কম। আমরা সঠিক হিসাব দেখে টাকা নেব। সঠিক হিসাব না দিলে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করব।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘হরিহরনগর থেকে যাদবপুর পর্যন্ত রাস্তার পাশে যে গাছগুলো ছিল, সেগুলো প্রায় সব নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। করতোয়া নদী খননের জন্য গাছগুলোর তেমন দাম হয়নি, সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে ৬০ হাজার টাকার মতো গাছ বিক্রি হয়েছে। এই সব টাকা সমিতির সভাপতির কাছে রাখা আছে।’

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘সীমান্ত ইউনিয়নে সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রির টাকা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এবিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।