জীবননগরে পিতার ওপর অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা

8

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জীবননগরে পিতার ওপর অভিমান করে জান্নাতুল তাজমি (১৬) নামের এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটের আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত জান্নাতুল তাজমি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামের আজাদ হোসেনের মেয়ে।
জানা যায়, গত শনিবার লেখাপড়া নিয়ে বকাঝকা করলে পিতার ওপর অভিমান করে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে জান্নাতুল তাজমি। বিষপানের বিষয়টি জানতে পেরে শনিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা জান্নাতুল তাজমিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়। পরদিন রোববার পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের নিকট করোনা উপসর্গ শ্বাসকষ্ট, ঠাণ্ডাজরের কথা কল্লে চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি করে। উয়োলো জোনে নেওয়ার পর জান্নাতুল তাজমির অবস্থার আরও অবনতি হলে ১ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার দুইদিনপর জান্নাতুলের জ্ঞান ফিরলে সে বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টার কথা বলে। পরে জান্নাতুলের পরিবারের সদস্যরাও বিষপানের কথা শিক্ার করে। পরে আইসিইউ ইউনিটেই তাঁর স্টোমাক ওয়াশ করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে। আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল ৬টার দিকে জান্নাতুল তাজমির মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অবস্থিত আইসিইউ ইউনিটের ইনচার্জ ডা. ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘করোনা উপসর্গ শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্তের কথা বলে জান্নাতুলের পরিবারের সদস্যরা তাকে ইয়োলো জোনে ভর্তি করে। কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওইদিনই তাকে আইসিইউ ইউনিটে নেওয়া হয়। জান্নাতুলের পরিবারের সদস্যরা তার বিষপানের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন করে। আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জান্নাতুলের চেতনা ফিরলে সে বিষপানের বিষয়ে জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে জান্নাতুলের মাতা বিষের বোতলের ছবি দেখায় ও বিষপানের বিষয়টি স্বিকার করে। আইসিইউ ইউনিটে জান্নাতুলের স্টোমাক ওয়াশ করা হয়। কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমরা তাকে বাচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সকালেই বিষয়টি আমরা সদর থানা কর্তৃপক্ষকে জানায় ও দুপুর ১টার দিকে থানা পুলিশের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লেখাপড়া নিয়ে বকাঝকা করায় পিতার ওপর ওভিমান করে জান্নাতুল তাজমি নামের এক কিশোরী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি সদর থানা কর্তৃপক্ষ তদন্ত করেছে। তবে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশের দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ‘১১ তারিখ শনিবার পিতার ওপর অভিমান করে জান্নাতুল তাজমি নামের এক কিশোরী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ওইদিনই পরিবারের সদস্যরা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়। পরদিন সেখান থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটির জ্ঞান ফিরলে সে বিষপানের বিষয়ে জানায়। কিন্তু আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (গতকাল) সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে নিহত জান্নাতুলের পক্ষ থেকে কোন কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। জান্নাতুলের পিতাসহ পরিবারের সদস্যদের জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ দাফনের অনুমতি দিয়ে হস্তান্তর করা হয়।’