জীবননগরে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জাহিদের বিরুদ্ধে

378

ভ্যানচালককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ!
নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবননগর থানার সেকেন্ড অফিসার জাহিদের বিরুদ্ধে গভীর রাতে ভ্যানচালককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার দিবাগত বৃহস্পতিবার ভোররাতে জীবননগর শহরের মুক্তমঞ্চের সামনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে পুলিশ অফিসার দত্তনগর রোডে একটি দোকানে এসে দোকানদারের বাবার কাছে সিগারেট দাবি করে। সিগারেট দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানির ভ্যানচালক পিতার কানে মুখে চড় থাপ্পড় মেরে আহত করাসহ ভ্যানটি ভেঙ্গে দেয়। তাছাড়া ঘটনাটি কাউকে না বলারও হুমকি দিয়ে চলে যায়। ঘটনাটি নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে শহরে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে বিষয়টি আপোষ নিস্পত্তি হয়েছে বলে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন।
তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, জীবননগর থানায় সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সেকেন্ড অফিসার হিসেবে সাব ইন্সপেক্টর জাহিদুল ইসলাম জাহিদ যোগদান করেছেন। যোগদানের পরেই এহেন কর্মকান্ডে সাধারন মানুষের নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাত বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সেকেন্ড অফিসার জাহিদ সাদা পোশাকে জীবননগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মুক্তমঞ্চের সামনে রাস্তায় এক দোকানির ভ্যানচালক পিতাকে আটকিয়ে সিগারেটের দেওয়ার কথা বলেন। এসময় দোকান মালিকের পিতা হতদরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুল মান্নান বলেন, দোকান খোলা নেই সিগারেট কোথায় আছে আমি জানি না। এতে দারোগা জাহিদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারপিট করে।
এব্যাপারে বাঁকা গ্রামের স্কুলপাড়ার মৃত খোদাবক্স মন্ডলের ছেলে ভ্যানচালক আব্দুল মান্নান (৬৫) বলেন, জীবননগর মুক্তমঞ্চের পাশে আমাদের একটি ডাল পুরির দোকান আছে। দোকানটি আমার দুই ছেলে পরিচালনা করে, আমিও সেখানে মাঝেমধ্যে বসি। আমি প্রতিদিনের মত গত বুধবার রাতে জীবননগর শহরে ভ্যান চালাতে থাকি। জীবননগর মুক্তমঞ্চের সামনে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দারোগা জাহিদ আমাকে (সাদা পোশাকে) ডাকে এবং আমাদের দোকান থেকে সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে। আমি বলি সিগারেট আছে। তবে, সেগুলো কোন যায়গায় রাখা আছে তা আমার জানা নেই। তিনি এইসময় আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে চড় থাপ্পড় মেরে আমার ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যানের চাবির সুইচ ভেঙ্গে ভ্যানটি অচল করে দেয়। এরপর আমাকে ভ্যানটি নিয়ে থানায় যেতে বলে। আমি তার কথামতো থানার দিকে যেতে থাকি একসময় উপজেলা গেটের সামনে মোটরসাইকেল রেখে দারোগা বাবু ভ্যানের উপর উঠে বসে। আমি হাজী ক্লথের দোকান বরাবর পৌছালে দারোগা বাবু ভ্যান থেকে নেমে আমাকে টেনে হেঁচড়ে গলির ভিতর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং আমাকে গালিগালাজ করতে থাকে। দারোগা বাবুর আচরণ দেখে আমার মনে হয়েছে তিনি ওই সময় নেশায় আসক্ত ছিলেন। তার সাথে আর কোনো পুলিশ সদস্য ছিলো না। আমি তখন দারোগা বাবুর হাতে পায়ে চেপে ধরে কান্নাকাটি করলে আমাকে ছেড়ে দেয়।
এব্যাপারে অভিযুক্ত সাব ইন্সপেক্টর জাহিদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল তবে বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেতা বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান ও পৌরসভার কাউন্সিলর ওয়াসিম রাজার উপস্থিতে নিস্পত্তি করা হয়েছে।
জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধানের সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টি নিস্পত্তির কথা স্বীকার করে বলেন, একজন ব্যক্তি অন্যায় করে যদি সে অনুতপ্ত হোন তাহলে তাকে ক্ষমা করাই যেতে পারে।
এব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) তরিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জীবননগর থানার এসআই জাহিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে এটি আমরা শুনেছি। তদন্ত করা হচ্ছে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।