জীবননগরে গরম কাপড়ের টান; ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়

401

জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ: এসেছে পৌষ মাস, বইছে হিমেল হাওয়া। সন্ধ্যা থেকেই কুয়াশায় ঢেকে যায় প্রকৃতি। সেই সঙ্গে ক্রমেই কমছে রোদের প্রখরতা ও রাতের তাপমাত্রা। সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতিতে বিরাজ করছে জীর্ণ ঋতু শীত। এ পরিস্থিতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গরম কাপড় বিক্রেতারা। জীবননগর শহরের ফুটপথ থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেটগুলোতে চলছে জ্যাকেট, সোয়েটার, গেঞ্জি, কম্বলসহ সব ধরনের শীতের পোশাক বেচাকেনার ধুম। জীবননগর বাজারে শীতবস্ত্র সরবরাহের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শেষ।
জীবননগর বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, এবার শীতের পোশাকের চাহিদা অনেক বেশি। স্বল্প দামে কিছু ভালো গরম কাপড় পাওয়া যায় এসব ফুটপাতে। তাই নি¤œমানের মানুষের পাশাপাশি ভিড় জমাচ্ছেন সচ্ছলরাও। জীবননগর শহরের মোল্লা নিউ মার্কেট, তরফদার মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ব্লেজার, কোট, জ্যাকেট, চাঁদর, ফুলহাতা সার্ট ও টি-সার্ট বিক্রির জন্য দোকানে ঝুলিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এসব দোকানে দেশে তৈরি বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আরমানি, হিউগোবাস এবং ভেরী ব্রান্ডের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। যারা একটু কম দামে শীতের পোশাক কিনতে চান তারা জীবননগর পুরাতন ডাকবাংলাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতগুলোতে ক্রেতাদের আকৃষ্ঠ করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন হাকডাকে ব্যবস্থা করে রাখছেন ফুটপাত গুলো। স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর দামি পোশাকা কেনার মত সামর্থ না থাকায় তাদের সাধ্য মত অর্থের মধ্যে দিয়ে ফুটপাতে শীতের পোশাক ক্রয় করে তারা সন্থষ্ঠ। তারা অনেকটা আনন্দ মনেই নেড়েচেড়ে বেছে বেছে নিজের পছন্দ মত তাদের সাধ্য অনুযায়ী শীতের পোশাক কিনছে। জীবননগর শহরের পুরাতন ডাকবাংলার পোশাক বিক্রেতা, ফারুক দৈনিক সময়ের সমীকরণকে বলেন, নভেম্বরের শুরু থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হয়। তবে এই কয়েক দিনে একটু শীত বেশি অনুভূত হওয়ায় এখন বিক্রির পরিমান বেড়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গত তিনদিনে অর্থাৎ রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার শীত বেশি পড়ায় বাজারে ক্রেতাসাধারনের আনাগোনা বেশি লক্ষ করা গেছে। সবকিছু মিলিয়ে এবার ব্যবসা ভালো যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গোয়ালপাড়া থেকে আগত মাসুদ নামের একজন ক্রেতা বলেন, গত কয়েকদি যাবৎ জীবননগরে শীতের মাত্রা একটু হওয়ায় সাধারন কাপড়ে শীত আটকানো যাচ্ছে না। তাই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য শীতের কাপড় কিনতে এসেছি। জীবননগর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ঐশ্বর্য সাহা ও নওরীন দৈনিক সময়ের সমীকরণকে বলেন, গত কয়েক দিন যাবৎ তীব্র শীত পড়ায় শরীরে কাপুনি লাগে। যার ফলে সকালে প্রাইভেট পড়তে অনেক কষ্ট হয়। সে জন্য বাজারে একটি গরম কাপড় কিনতে এসেছি।