‘জিনের বাদশা’ নিয়ে গেল দেড় লাখ টাকা!

49

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চুয়াডাঙ্গায় কথিত জিনের বাদশার প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে দেড় লাখ টাকা খুইয়েছেন এক ভ্যানচালক। কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এসব টাকা। গতকাল বুধবার দুপুরে তাঁর কাছে জিনের বাদশা আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ছেলের মুখে রক্ত উঠে মারা যাবে বলে ভয় দেখায় ওই জিনের বাদশা। কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে দেড় লাখ টাকা খুইয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভ্যানচালক আবদুল জলিল। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দোস্ত গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে কয়েক দিন আগে ভ্যানচালক জলিলের মোবাইলে কল দেয় প্রতারক। রাতারাতি কোটিপতি করে দেওয়ার স্বপ্ন দেখায় সে। জলিল সরল মনে সব বিশ্বাস করে। কয়েক দফায় বিকাশের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা দেন জলিল। বিনিময়ে জলিলকে বগুড়ায় নিয়ে একটি ছোট্ট মূর্তি দিয়ে বলা হয় এটি স্বর্ণের মূর্তি। পরবর্তীতে প্রতারক জানায়, ঘরের মেঝে খুঁড়লে আরও এক হাঁড়ি স্বর্ণের টাকা পাবে। পরে মূর্তিটি পরীক্ষা করে জলিল জানতে পারেন এটি পিতলের। ঘরের মেঝে খুঁড়েও কোনো টাকার হাঁড়ি না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন জলিল। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে দর্শনা থানায় গিয়ে কথিত জিনের বাদশার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। গতকালও জলিলের কাছে মোবাইল ফোনে ওই জিনের বাদশা আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। না দিলে তাঁর ছেলের মুখে রক্ত উঠে মারা যাবে বলে হুমকি দেয়।
এ ব্যাপারে দর্শনা থানার ফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান কাজল বলেন, ‘প্রতারণার শিকার জলিল থানায় অভিযোগ করেছেন। আমরা প্রতারককে ধরতে পুলিশি জাল বিস্তার করেছি।’