জাহান্নামের ভয়ানক শাস্তি

824

ধর্ম ডেস্ক: আল্লাহ তায়ালা জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন। এ দুটি মানুষের চিরস্থায়ী আবাস্থল। দুনিয়াতে ভালো কাজ করলে পরকালে মিলবে চির-সুখের জান্নাত আর মন্দ কাজ করলে মিলবে চির-দুখের জাহান্নাম। জান্নাতীদের জন্য রয়েছে কল্পনাতীত শান্তি এবং জাহান্নামিদের জন্য রয়েছে কল্পনাতীত শাস্তি। এখানে জাহান্নামের কিছু শাস্তির কথা তুলে ধরা হলো রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জাহান্নামীরা আল্লাহর কাছে বৃষ্টি চাইবে। তখন অতি কালো বর্ণের এক টুকরো মেঘমালা জাহান্নামের উপরে দেখা যাবে। জাহান্নামীদের দৃঢ় বিশ্বাস জš§াবে যে, এ মেঘমালা থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলে তাদের শাস্তির মাত্রা কিছুটা কমবে। অথচ ওই মেঘমালা থেকে অগণিত পাথর এবং সাপ-বিচ্ছু তাদের প্রতি বর্ষিত হতে থাকবে। অপর হাদিসে রয়েছে, জাহান্নামীদের খাদ্য হবে ‘দারিউ’ এবং তা হবে অত্যন্ত তিক্ত এবং পচা লাশের দুর্গন্ধের চেয়েও অধিক দুর্গন্ধযুক্ত। আর তা হবে আগুনের চেয়েও অধিক উত্তপ্ত (মিশকাত)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘জাহান্নামীদেরকে অত্যুষ্ণ প্রস বণ থেকে পানি পান করানো হবে। তাদের জন্য দারিউ ব্যতীত কোনো খাদ্য থাকবে না। যা তাদের পুষ্টিও জোগাবে না এবং ক্ষুধাও নিবারণ করবে না’ (সূরা গাশিয়া)। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, তাদের দেহের জামা হবে গন্ধকের এবং আগুন তাদের চেহারার সঙ্গে মিশে যাবে (সূরা ইবরাহিম)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কারো মৃত্যুতে চিৎকার করে কান্নাকারী মহিলারা মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করলে কেয়ামতের দিন এমন অবস্থায় দাঁড়াবে যে, তাদের দেহের একটি জামা হবে আলকাতরার, আর একটি হবে খুজলির। অর্থাৎ তার দেহে থাকবে খুজলি, পাঁচড়া, পচা আর তার ওপর আলকাতরা মেখে দেয়া হবে (যেন দ্রুত আগুন লেগে দীর্ঘক্ষণ থাকে)’ (মিশকাত)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, জাহান্নামে ‘লমলম’ একটি জায়গায় উটের গর্দানের মতো মোটা মোটা সাপ আছে। একটি কামড়ের বিষক্রিয়া ৪০ বছর থাকবে। ‘যুববুল’ নামক জায়গায় খচ্চরের মতো বিরাট বিরাট বিচ্ছু আছে। যার বিষক্রিয়াও ৪০ বছর থাকবে। অথচ এগুলো অনবরত দংশন করতেই থাকবে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। আমরা আর কতকাল আল্লাহর নাফরমানি করব, অন্যায় ও পাপাচারের পথে হাঁটব, নামাজ ত্যাগ করব? আর কতকাল দৌড়াব এই ভয়ংকর জাহান্নামের দিকে? আসুন আমরা আল্লাহর হুকুম এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকি এবং জান্নাত অর্জনে সচেষ্ট হই।