জাতীয় নাট্যোৎসবে অনির্বাণের ‘জিষ্ণু যারা’

695

05

সাজ্জাদ হোসেন : বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তিনটি মিলনায়তন এবং মহিলা সমিতি মিলনায়তনে চলছে ‘এ মাটি নয় জঙ্গীবাদের, এ মাটি মানবতার’ শীর্ষক জাতীয় নাট্যোৎসব। এ উৎসবে আগামি ১ অক্টোবর শনিবার সন্ধা ৭ টায় পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটারের ৪২ তম প্রযোজনা ‘জিষ্ণু যারা’। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী একটি ভঙ্গুর সমাজ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যজন আনোয়ার হোসেন। নাটকের সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রডাকশন ম্যানেজার প্রভাষক সায়েমুল হক টিপু বলেন-‘নাটকের প্রচলিত উপস্থাপনা রীতি ভেঙ্গে এবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে নাটকটি উপস্থাপনার প্রস্তুতি চলছে। নাটক নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা অনির্বাণের বহু দিনের পুরনো অভ্যাস। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন একটি আঙ্গিক সংযোজনে নির্দেশক ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন, আশারাখি দর্শকদের ভাল লাগবে’। নাটকের কাহিনীতে দেখা যায় মহিষের গায়ের মত কালো কুচকুচে রাতে ঘটে নারকীয় তান্ডব। খুন হয় মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মাঝির বিধবা কন্যা ফুলি। মানুষ সন্দেহের আঙুল তোলে দেশদ্রোহী এক রাজাকার পরিবারের দিকে। ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে থানায় মামলা দায়ের করেন ফুলির বাবা। পুলিশ রাজনৈতিক ডামাডোলে মামলাটি আতœহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করে। এরই মাঝে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে পুনঃবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার বাসনায় কেন্দ্রীয় সরকারের একজন মন্ত্রীকে গ্রামে আনেন দেশদ্রোহী খন্দকার। অতঃপর ফুলির অত্যন্ত øেহের যাত্রাশিল্পী এক যুবক কৌশলে খন্দকার বাড়ির চৌহদ্দিতে যাত্রাগানের ব্যবস্থা করে এবং যাত্রার মঞ্চেই ধর্ষক ও হত্যকারী খন্দকারের বখাটে ছেলের মস্তক শিরোচ্ছেদ করে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাহাবুবুর রহমান মুকুল, শামীম আজাদ, মিরাজ উদ্দিন, হাসমত কবির, সাজ্জাদ হোসেন, জগন্নাথ কুমার কর্মকার, আজাদুল ইসলাম মিলন, ফরহাদ হোসেন টিটন, জেসমিন আক্তার পপি, এস.এম.সাব্বির আলিম, হাবিবুর রহমান ঈদু, আব্দুলাহ্ আল ফয়সাল অপু, সাবিনা ইয়াছমিন লাকী এবং ফাতেমা খাতুন জেমি। নেপথ্য কাজ করেছেন মঞ্চপরিকল্পনা-আনোয়ার হোসেন, আলোক পরিকল্পনা-আবুল হোসেন, আলোক নিয়ন্ত্রণ-রেজাউল করিম, পোষাক পরিকল্পনা-রানী শাহ্ ও জেসমিন আক্তার পপি, উপকরণ-মিরাজ উদ্দিন, আবহ সংগীত-ইসরাইল হোসেন খান, বাদ্যযন্ত্রী-সায়েমুল হক টিপু, মামুন আল রাজী, আব্দুর রহমান এবং খাইরুল ইসলাম।