চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৬ অক্টোবর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় বিদ্যুৎ খাতে সরকারের পরিকল্পনার ব্যর্থতা : মির্জা ফখরুল

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
অক্টোবর ৬, ২০২২ ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের ঘটনা বিদ্যুৎ খাতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সার্বিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে দুপুর থেকে ৬ ঘণ্টা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ অধিকাংশ জেলায় বিদ্যুৎহীন অবস্থার বিষয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতা। পরিকল্পনা এবং কাঠামোগত যে বিষয় রয়েছে এই খাতে অর্থাৎ টেকনিক্যালি পুরোপুরি চুরি হয়েছে বলেই আজকে এই বিপর্যয় ঘটেছে। এটা শুধু বিদ্যুতে নয়, সর্বক্ষেত্রে ঘটনাগুলো ঘটছে। যার ফলে আজকে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, এর জন্য মূলত দায়ী সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন প্রজেক্ট গ্রহণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য হচ্ছে দুর্নীতি করা। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার যে এত চিৎকার-চেঁচামেচি করছে, আমরা বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছি, অতিরিক্ত উৎপাদনও হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায়। সেগুলো নিয়ে আমরা সেমিনারে বলেছি, কোথায় সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু গত মঙ্গলবারের ব্যাপারটা ছিল অস্বাভাবিক। সারা দেশের বেশির ভাগ জায়গাতে প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এটা টোটাল ব্লাক আউটের মতো হয়ে গেছে। এর থেকে বুঝা যায়, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নাম করে বহু প্রজেক্ট করেছে, টাকা পয়সাও বহু বানিয়েছে। বানিয়ে শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের একটা বড় বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এর ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক-ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেছে, সব কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে, জাতিকে এক অসহনীয় অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে। এ দিকে দুপুরে রাজধানীর আসাদ গেটে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অসুস্থ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে যান বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এই সরকার বিদ্যুৎ সেক্টরকে ‘ক্ষিধা আছে খাও, যত খাইতে পারিস খাও, তারপরে বিদ্যুৎ দিছে’। বিদ্যুৎ যে শুধু জেনারেশনে চলে না, ট্রান্সমিশন লাগবে, ডিসট্রিবিউশন লাগে- এগুলোর কিন্তু খুব একটা উন্নতি হয় নাই। খালি বিদ্যুৎ প্রকল্প বানিয়েই গেছে। বানিয়ে যাওয়ার ফলে আজকে যেটা হয়েছে। এটা আরো হবে ভবিষ্যতে। তিনি বলেন, রেন্টাল পাওয়ার যেগুলো আছে এগুলো পুরনো মেশিন। পুরনো মেশিন আর নতুন যেগুলো আছে- সেগুলো এক না। কোনো না কোনো সময় দেখা যাবে একটাতে সমস্যা হলে সবগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন কিভাবে করবে জানতে চাইলে টুকু বলেন, এই খাতকে পুরোপুরি প্রাইভেটাইজেশন করা যাবে না, করলে সাধারণ মানুষের জন্য প্রাইজ ঠিক করা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা মিক্সড করব। আমাদের যে পলিসি ছিল ৩০% বেসরকারি এবং ৬০% সরকারে থাকবে- এভাবে আমরা বিদ্যুতের উন্নয়ন করব। এই উন্নয়নের সাথে সাথে ট্রান্সমিশন ও ডিসট্রিবিউশনটাও সমন্বয় করে করব, যাতে সমস্যা না হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয় আওয়ামী মডেল অব ইকোনমির প্রতিফলন। তারা করেছে কী? দুর্নীতির জন্য একচেটিয়া কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট দিয়েছে। যত তাড়াতাড়ি টাকা বানানো যায়। কিন্তু এগুলোর ট্রান্সমিশন, ডিসট্রিবিউশনের যে সিনকোনাইজেশন তারা সেটা করে নাই। কারণ সে দিকে তারা মনোযোগ দেয় নাই।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।