চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১০ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাতিসঙ্ঘের গুমবিষয়ক কার্যকরী গ্রুপের বৈঠক শুরু

সমীকরণ প্রতিবেদন:
মে ১০, ২০২২ ১২:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনের গুমবিষয়ক কার্যকরী গ্রুপের ১২৭তম অধিবেশন গতকাল সোমবার জেনেভায় শুরু হয়েছে। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। এতে ২১টি দেশের ২০১টি গুমের ঘটনা পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, জাতিসঙ্ঘের গুমবিষয়ক কার্যকরী গ্রুপের সদস্যরা মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। জাতিসঙ্ঘের সদস্য দেশগুলো কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে পারে না। এতে কোনো দেশের সরকারি পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব নেই। এই গ্রুপ গুমের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে। আর বৈঠকের মাসখানেক পর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ইতঃপূর্বে ১২৬তম অধিবেশন শেষে জেনেভায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। এতে ৭৬ জন বাংলাদেশীর নাম ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালিকায় নিখোঁজ থাকার পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আবার ফিরে এসেছেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দেখা গেছে, নিখোঁজ কেউ কেউ ভারতে অবস্থান করছেন। তাদের অবস্থানের খবর যেসব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার কপি এবং লিংক কমিটিকে দেয়া হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের ১২৫তম অধিবেশন শেষে তৈরি করা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গুম পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন করতে বাংলাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা গুমের এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে। এসব অভিযোগ সম্পর্কে সরেজমিন জানতে বাংলাদেশে আসতে চেয়েও সরকারের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।

গত ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৬ ডিসেম্বর তাদের প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন (এনজিও) ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাতে ওয়ার্কিং গ্রুপ গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিনিধিদের সাথে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও সংগৃহীত তথ্য বিনিময় করেছে। পরে গ্রুপ লিখিতভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সরকারকে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদের আলোচনায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে ঘনঘন গুমের ঘটনার বিষয়টির সাথে আমরা একমত নই। নিখোঁজ ব্যক্তিদের গুম হিসেবে চালিয়ে দেয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এ ধরনের অভিযোগ সরকারের অর্জন ও ভাবমর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করার হীন উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।