চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাতিসংঘের প্রস্তাব : মিয়ানমারের সুমতি কাম্য

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চীন-রাশিয়াসহ ১০টি দেশের বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সম্মানজনকভাবে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রস্তাব বিপুল সংখ্যাধিক্যে পাস হয়েছে। বিশ্ব জনমত যে এ প্রশ্নে মানবতার পক্ষে এবং অত্যাচারকারী নিপীড়নকারীদের বিপক্ষে সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে। প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে স্বদেশ ফিরিয়ে আনা এবং তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। রবিবার ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার আনা ওই প্রস্তাবে ১২২টি দেশ পক্ষে ভোট দিয়েছে। কিন্তু চীন রাশিয়ার সঙ্গে কম্বোডিয়া, লাওস, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, বেলারুশ, সিরিয়া, জিম্বাবুয়ে ও মিয়ানমার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আর ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ ২৪টি দেশ। পৃথিবীর সব চেয়ে বিপন্ন ওই জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নামে অমানবিক নির্যাতন চলছে। বর্মি সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। নির্বিচারে ধর্ষণ করেছে মেয়েদের। আর হত্যা করা হয়েছে হাজার হাজার পুরুষকে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার গত চার মাসে কমপক্ষে সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। মিয়ানমার সরকারের মানবতাবিরোধী ভূমিকার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মিয়ানমারে খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। বিশ্ব জনমতকে থোড়াই কেয়ার করে এখনো ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এ প্রস্তাবে বিশ্বের সিংহভাগ দেশের তথা মানব সমাজের বড় অংশের অভিমতের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে সাধারণ পরিষদের কোনো সিদ্ধান্ত সদস্যভুক্ত কোনো দেশের জন্য মানার বাধ্যবাধকতা না থাকায় মিয়ানমার এতে আদৌ সায় দেবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রাখে। তবে সেখানে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো ক্ষমতা থাকায় চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতায় এ পর্যন্ত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো কড়া প্রস্তাব পাস করা সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারের প্রতি চীন ও রাশিয়ার অনৈতিক সমর্থন এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বিপদ ডেকে আনছে। যাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করা যায়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।