চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৬ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাতিসংঘের আশঙ্কা : বছরে ২০ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ৬, ২০২২ ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘটনায় প্রতি বছর ২০ কোটিরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। গতকাল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ আশঙ্কার কথা বলেন। সূত্র : রয়টার্স।
গুতেরেস বলেন, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যাদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব যেমন প্রবল তাপ, বন্যা ও ক্ষরায় মৃত্যুর ঝুঁকি ১৫ গুণ বেশি। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ। জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের পৃথিবী একটিই’ যা বাস্তবতার একটি সহজ কথা। এই গ্রহটা আমাদের একমাত্র আবাস। কাজেই এর বায়ুমন্ডলের স্বাস্থ্য, পৃথিবীর বুকে যে প্রচুর জীবন ও তার বৈচিত্র্য, এই গ্রহের বাস্তুতন্ত্র এবং এর সীমিত সম্পদ রক্ষা করা আমাদের জন্য জরুরি। কিন্তু তা করতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। টেকসই নয় এমন জীবন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে আমরা এই গ্রহ থেকে অনেক বেশি আকাক্সক্ষা করছি। পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থা আমাদের চাহিদা মিটিয়ে যেতে সক্ষম নয়। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এটি কেবল পৃথিবীকে আহতই করছে না, আমাদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ মানুষ এবং ১৭টি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট্যের সবগুলোর জন্যই জরুরি। প্রকৃতি আমাদের খাবার, নিরাপদ পানি, ওষুধ নিশ্চিত করে, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে এবং চরম আবহাওয়া থেকে আমাদের সুরক্ষা দেয়। কাজেই সুবিবেচনার মাধ্যমে প্রকৃতি ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতির সেবাগুলো সবার, বিশেষত ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী ও সমাজের, সমহারে প্রাপ্তি নিশ্চিত করা আমাদের জন্য জরুরি। তিনি বলেন, ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ ক্ষয়িষ্ণু বাস্তুতন্ত্রের কারণে ক্ষতির শিকার। দূষণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটছে। ১০ লাখের বেশি উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে, যার অনেকগুলো খুব বেশি হলে আর মাত্র কয়েক দশক টিকতে পারবে। ৫০ বছর আগে বিশ্বের নেতারা জাতিসংঘ মানব পরিবেশ সম্মেলনে একত্রিত হয়ে এই গ্রহটাকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত সফল হতে পারিনি। প্রতিদিনই যে সতর্ক ঘণ্টা বেজে চলেছে, তা আর আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।