চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জমজমাট লড়াই : রুদ্ধশ্বাস জয় বাংলাদেশের

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
জমজমাট লড়াই হলো দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে। আগের ম্যাচে লো স্কোরিংয়ের কারণে উইকেট নিয়ে যে সমালোচনা, তা যেন থামিয়ে দিলো এই ম্যাচ। ব্যাটসম্যান-বোলাররা এদিন সবাই সুবিধা আদায় করে নিলেন। স্বাগতিকদের ভয় ধরিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। তবে ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা টাইগারদের কাছে হার মানতেই হয়েছে তাদের। শেরে বাংলায় সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শেষ ওভারে এসে রুদ্ধশ্বাস এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ৪ রানের এই জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। তবে গতকাল শুক্রবারের জয়টা আগের ম্যাচের মতো অতটা সহজ ছিল না।
বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ১৪২ রানের টার্গেটে প্রায় সমান তালেই লড়াই করেছে সফরকারীরা। শেষ ওভারে নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২০ রান। মোস্তাফিজের করা ওই ওভারে প্রথম চার বলে সফরকারীরা সংগ্রহ করে ৭ রান। তবে মোস্তাফিজ পঞ্চম বলটি নো দিলে উত্তেজনা ফিরে ম্যাচে, আসে বাউন্ডারিও। তাতে ২ বলে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৮ রান। ফ্রি-হিট থেকে দুটি রান করেন লাথাম। শেষ বলে ছক্কা মারতে পারেননি অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৩৭ রানে। ৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেও আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন কিউই অধিনায়ক। ৩৭ রানের ছোট্ট কিন্তু কার্যকর এক ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
এরআগে বাংলাদেশের দেয়া ১৪২ রানের টার্গেটে সাবধানী ব্যাটিং শুরু করে নিউজিল্যান্ড। যদিও ১৮ রানে দুই উইকেট হারায় সফরকারীরা। কাল কিউই শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব। ব্লান্ডেলের উইকেটটি দখলে নেন শেখ মেহেদি হাসান। এরপরই তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক টম লাথাম উইল ইয়ংকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ এক জুটি গড়েন। মন্থর উইকেটে এরা দু’জন সংগ্রহ করেন ৪৩ রান। শেষ পর্যন্ত তাদের ৪৬ বলে ৪৩ রানের জুটিটি ১১তম ওভারে এসে ভাঙেন সাকিব। তার ঘূর্ণিতে ইয়ং (২৮ বলে ২২) ব্যাট চালালে আউটসাইড এজ হয়ে বল চলে যায় থার্ডম্যানে, ডাইভ দিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন সাইফুদ্দিন। সাকিব ইয়ংকে ফেরালো দারুণ খেলতে থাকেন লাথাম। মাঝে দু’বার রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান কিউই অধিনায়ক। একবার সাকিব আল হাসান, আরেকবার রিভিউ নিয়ে জীবন পান মোস্তাফিজুর রহমানের বলে। এরপর আরেকটি ছোট জুটি। ১৫তম ওভারে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে (১০ বলে ৮) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। ডিপ স্কয়ার লেগ বাউন্ডারিতে দুইবারের চেষ্টায় ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহীম। পরের ওভারে আরও এক উইকেট। এবার শেখ মেহেদীকে সুইপ করতে গিয়ে ধরা হেনরি নিকোলস (৬)। ৯২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। মাথার ওপর রানের চিন্তা বাড়তে থাকে অন্যদিকে। তবে লড়াইটা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম। দারুণ এক ইনিংস উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত আর বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়তে পারেননি। তবে খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ৬৫ রানের ইনিংস। এরআগে তার ক্যারিয়ারে সেরা স্কোর ছিল ৩৯। বাংলাদেশের শেখ মেহেদি ও সাকিব দুটি করে এবং নাসুম নিয়েছেন এক উইকেট। উইকেটহীন দিন কাটিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। চার ওভারে ৩৪ রান দিয়েছেন দেশসেরা এই পেসার। ম্যাচটা টি-টোয়েন্টি। কিন্তু যে উইকেটে খেলা হচ্ছে সেটি টি-টোয়েন্টির জন্য মোটেই আদর্শ নয়। এর মানে আবার এটাও নয় যে রান করা একদমই অসম্ভব। গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ দল দেখিয়েছে মন্থর উইকেটে কীভাবে রান করতে হয়! টসে জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৪১ রান করেছে মাহমুদুল্লাহর দল।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা একদমই ভালো হচ্ছিল না। গতকাল পাওয়া গেল সেই কাক্সিক্ষত পাওয়ার প্লে’র রান। লিটন দাস ও মোহাম্মদ নাঈম মিলে ওপেনিং জুটিতে যোগ করেছে ৫৯ রান। যার সিংহভাগটা এসেছে লিটনের ব্যাট থেকে। ২৯ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৩ রান করেন লিটন। দু’জনের ‘ওয়ানডে’ ধাঁচের ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে’তে ৬ রান রেটে ৩৬ রান তোলে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির মারমুখী ক্রিকেট থেকে ভিন্ন হলেও মিরপুরের উইকেটের জন্য এমন একটা শুরুই আদর্শ ছিল। যার সুবিধাটা নিতে পেরেছে বাংলাদেশ দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা। দশম ওভারে প্যাটেলকে ছক্কা মারার পরের বলে লিটন আউট হন, পরের বলে মুশফিকুর রহীমও স্টাম্পিংয়ের শিকার হলেও রানের গতি কমেনি। ক্রিজে এসেই সাকিব আল হাসান খেলতে পেরেছেন হাত খুলে। ৭ বল খেলে ২ চারে ১২ রান করে আউট হয়েছেন সাকিব। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহও নাঈমের সঙ্গে ২৯ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৩৪ রান যোগ করেন। পুরো ইনিংসজুড়ে মন্থর ব্যাটিং করে যাওয়া নাঈম আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করে ফিরেছেন আউট হয়ে। ১৬তম ওভারে রচিন রবীন্দ্রর বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তিনি। পরের ওভারেই এজাজের বাঁহাতি স্পিনে মারার চেষ্টায় আউট হন ছন্দে থাকা আফিফ হোসেন। বাংলাদেশ দলের রান তখন ৫ উইকেটে ১০৯। সেখান থেকে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে ১৪১ রানে নিয়ে যান অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ও নুরুল হাসান। দু’জনে মিলে ২১ বলে ৩২ রান যোগ করেন। মাহমুদুল্লাহ ৩২ বল খেলে ৫টি চার মেরে অপরাজিত ছিলেন ৩৭ রানে। নুরুলের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে অপরাজিত ১৩ রান।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।