ছোট দলের বড় কদর

332

চলছে ভাঙাগড়া লক্ষ্য ক্ষমতার স্বাদ
ডেস্ক রিপোর্ট: সারাবছর গুরুত্ব না থাকলেও নির্বাচনের আগে নামসর্বস্ব ছোটগুলোকেও কাছে টানছে বড় দলগুলো। ছোট দলগুলোর এখন বড় কদর। আদর্শিক মিল না থাকলেও ছোট দলগুলো এখন বড় দলের জোটে ভেড়ার চেষ্টা করছে। বড় দলগুলোও তাদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। জোটের টানাটানিতে ভাঙাগড়া চলছে ছোট দলে। ভোটের মাঠে অস্তিত্ব নেই, এমন দল মিলে নতুন জোট গড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলেছেন, নীতি-আদর্শের বালাই নেই এই ভাঙাগড়ায়। সবার লক্ষ্য ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া। সংসদে প্রবেশের রাস্তা প্রশস্ত করা। দেশে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৩৯। অনিবন্ধিত দল আছে দেড় শতাধিক। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা আটটি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলে সমসংখ্যক নিবন্ধিত দল রয়েছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতৃত্বাধীন ৫৮ দলের জোটে নিবন্ধিত দল আছে তিনটি। সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বাধীন আট দলের জোটে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা তিন। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন বহুল আলোচিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা মাত্র দুটি। নিবন্ধিত বাকি ১৫ দলের মধ্যে সংসদে প্রতিনিধিত্ব রয়েছে একমাত্র বিএনএফের। ইসলামী আন্দোলন, বিকল্পধারা, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, জাকের পার্টি ও ইসলামিক ফ্রন্টের কার্যক্রম চোখে পড়লেও বাকি দলগুলোর অস্তিত্ব কাগুজে। কিন্তু এসব দলের নেতারাও এমপি-মন্ত্রী হতে ছুটছেন বড় দলের জোটে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটে থাকলে এমপি হওয়ার সুযোগ বেশি, তাই সেদিকেই ঝোঁক বেশি। নিজেদের জোট অটুট রেখে অপরের ঐক্য ভাঙতে বড় দুই দল সচেষ্ট বলেও অভিযোগ রয়েছে। জোটের টানাপড়েনে সম্প্রতি ভেঙেছে বিকল্পধারা। গোড়া থেকে সঙ্গে থেকেও ড, কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়নি সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা। গতকাল শুক্রবার বিকল্পধারার একাংশের কয়েক নেতা দলের প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ‘বহিস্কার’ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। বিকল্পধারা ভাঙনের জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো কতটা দেউলিয়াপনার পরিচয় দিচ্ছে, এ ঘটনা তারই দৃষ্টান্ত। ক’দিন আগে ভেঙেছে বাংলাদেশ ন্যাপ। দলটি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়লে ন্যাপের একাংশ সভাপতি জেবেল রহমান গাণিকে বহিস্কার করে ২০ দলে থেকে যায়। এনডিপিরও একই পরিণতি হয়েছে। একাংশ ২০ দলে রয়ে গেছে। ন্যাপ ও এনডিপির ২০ দল ত্যাগ করা অংশ ক্ষমতাসীন জোটের দিকে যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। দল দুটি ২০ দল ছেড়ে যাওয়ার পেছনে সরকারের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করেন জোট সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সরকার বহু আগে থেকেই চেষ্টা করছে জোটে ফাটল ধরাতে। কিন্তু পারেনি। ভোটের আগে কয়েক নেতাকে টোপ দিয়ে ভাগিয়ে নিয়েছে, যা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দৈন্যতার বহিঃপ্রকাশ। বিকল্পধারা, ন্যাপ ও এনডিপির ভাঙনে বিএনপির হাত নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে জোট সম্প্রসারণ সম্পর্কে ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সমকালকে বলেন, অনেকেই তাদের সঙ্গে আসতে চান। তবে কাকে কাকে নেওয়া হবে, এ সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার মতে, জোট হয় সমমনাদের সঙ্গে। ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক ১৪ দলে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ভেড়ার চেষ্টা সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যে কেউ আসতে চাইতে পারে। তবে নেওয়া হবে ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দলগুলোকেই। সাম্প্রদায়িক কোনো দলের স্থান হবে না আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন এ জোটে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলে ভাঙনে আওয়ামী লীগের হাত রয়েছে। এ অভিযোগের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট এমনিতেই শক্তিশালী। বিএনপির জোট ভাঙার প্রয়োজন নেই। বিএনপি নিজেই ভেঙে যাচ্ছে। উদ্ধার পেতে ড. কামাল হোসেনের ওপর ভর করেছে। বিএনপি বলতে পর্যন্ত পারছে না নির্বাচনে জয়ী হলে কে তাদের প্রধানমন্ত্রী হবেন। এমন একটি দলের জোটকে ভাঙার কী প্রয়োজন আওয়ামী লীগের!