চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৩১ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছেলে হত্যার অভিযোগে বাবা আটক

শিশুসন্তানকে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে হত্যা
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ৩১, ২০২২ ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আলমডাঙ্গা অফিস/ প্রতিবেদক, মুন্সিগঞ্জ:

চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে ২ মাস ১৩ দিন বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা ইখলাছ উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁকে আটক করা হয়। নিহত শিশু ইকবাল হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলার আঠারোখাদা গ্রামের ইখলাছ উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল রাতে শিশু ইকবালের মা মিতালী খাতুন বাদী হয়ে ইখলাস উদ্দিনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

জানা গেছে, ইখলাছ উদ্দিন দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মাঝেরপাড়ার পলাশ উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। ওই বাসায় ১৫ দিন আগে শিশু ইকবালের পায়খানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার একটি সিরাপ ওষুধ দেয়। শিশুটির মা বাড়িতে নিয়ে চার দিন ওই ওষুধ শিশু ইকবালকে খাওয়ান। পাঁচ দিনের মাথায় ওই ওষুধ আবারও খাওয়ানোর জন্য বোতলের মুটকি খুললে বিষের গন্ধ পান। পরে তিনি ওষুধের বোতল নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান। ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেন ওষুধের মধ্যে কেউ কিছু মিশিয়েছে। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর গতকাল সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে সকালেই শিশু ইকবালকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। সেখানে নেওয়ার পথে মারা যায় শিশুটি। সন্ধ্যায় খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ সোনাতনপুর গ্রামে পৌঁছে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শিশু ইকবালের মা মিতালী খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার অন্য এক জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। সেই পক্ষের দুটি ছেলে সন্তান আছে। সেখান থেকে আমার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার চার বছর পর ইখলাসের সাথে মোবাইল প্রেম করে আমাদের বিবাহ হয়। আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীর কোনো সন্তান না হওয়ায় চার বছর আগে ইখলাছ আমাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে সে আমাকে সন্দেহ করতে থাকে। পরে আমাদের কোলজুড়ে আসে এক ছেলে সন্তান। ওই ছেলে তার নয় বলে জানায় ইখলাছ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকালে বাড়ির কাজ করছিলাম। সেসময় ইখলাছ ছেলেকে কোলে নেয়। হঠাৎ সুস্থ ছেলে কেঁদে ওঠে। পরে গিয়ে দেখি আমার ছেলের বাম পা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। জানতে চাইলে ইখলাছ বলে টিকা দেওয়ার স্থান থেকে রক্ত বের হচ্ছে। পরে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার জানায় টিকা দেওয়ার স্থান থেকে কোনো রক্ত বের হয়নি। ছেলের বাম পায়ের অন্য স্থানে একটি ইনজেকশন পুশ করার চিহ্ন রয়েছে। সেখানে ফুলে গেছে। আমার ছেলেকে বাম পাশে বিষ মিশ্রিত ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করা হয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গায় ইখলাস উদ্দিন যে বাসায় ভাড়া থাকতের সে বাসার মালিক সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শিল্পী ও বাসার ভাড়াটিয়া শরিফুল ইসলামের স্ত্রী লতা খাতুন বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনে পাপী। মাঝে মধ্যেই তারা এই ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। তারা নিষ্পাাপ শিশুটিকে মেরে ফেলেছে বলে আমরা ধারণা করছি।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, ‘দুপুরে শিশুটিকে আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। তখন শিশুটির অবস্থা খারাপ ছিল। শিশুটির খিচুনি হচ্ছিল। তার মা বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করার অভিযোগ করছিলেন। শিশুটির বাম পায়ে একাধিক ইনজেকশন পুশের চিহ্ন ছিল। শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। তবে শিশুটির পায়ে কোন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। বেঁচে থাকলে রক্ত পরীক্ষা করে বলা যেত। তার আগেই তো শিশুটি মারা গেল।’

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় খবর পেয়ে আঠারোখাদা গ্রামে পৌঁছে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ইখলাছ উদ্দিনকে আটক করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রাতে শিশু ইকবালের মা মিতালী খাতুন বাদী হয়ে ইখলাস উদ্দিনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।