চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২২ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছেলের বাটামের আঘাতে মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

ঘাতক ছেলে ইদ্রিস আলী আটক, ময়নাতদন্ত শেষে কদবানুর দাফন সম্পন্ন
দর্শনা অফিস:
নভেম্বর ২২, ২০২১ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দর্শনার শ্যামপুরে ছেলেকে বেশি পনি দিয়ে গোসল করতে নিষেধ করায় ছেলের বাটামের আঘাতে কদবানু নেসা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর গ্রামের মল্লিকপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে ইদ্রিস মল্লিককে (৩৮) আটক করেছে পুলিশ।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর গ্রামের মল্লিক পাড়ার জামাল মল্লিকের ছেলে ইদ্রিস মল্লিক নিজ বাড়িতে মোটর পাম্পের পানি দিয়ে স্নান (গোসল) করছিলেন। এসময় তাঁর মা কদবানু নেসা ছেলেকে বেশি পানি দিয়ে গোসল করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে মা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায় ইদ্রিস মল্লিক তাঁর মায়ের ওপর চড়াও হয়ে বাটাম (বাইলধারা) দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে রক্তাক্ত জখম হয়ে গুরুত্বরভাবে আহত হন কদবানু নেসা। এসময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় কদবানু নেসাকে উদ্ধার করে দর্শনার স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় স্থানীয় লোকজন হত্যাকারী ঘাতক ছেলে ইদ্রিস মল্লিককে আটক করে। খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক ছেলে ইদ্রিস মল্লিককে আটক করে দর্শনা থানায় নেয় এবং নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাটাম (বাইলধারাটি) জব্দ করেছে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম লুৎফুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক ছেলে ইদ্রিস আলীকে আটক করা হয়েছে এবং নিহত কদবানু নেসার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতর আরেক ছেলে কুদ্দুস মল্লিক বাদী হয়ে মায়ের হত্যাকারী ঘাতক ভাই ইদ্রিস মল্লিককে আসামি করে দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করেছে। এসময় চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা-দর্শনা ও জীবননগর সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে, গতকাল রোববার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে নিহত কদবানুর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দুই সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে কদবানুর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিনকে সভাপতি করে মেডিকেল বোর্ডে সদস্য ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. তারানা আনোয়ার। বিকেলেই ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করে পুলিশ।
নিহত কদবানুর লাশের ময়নাতদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. তারানা আনোয়ার বলেন, ‘দুই সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্তটি সম্পন্ন করা হয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানানো হবে।’

এদিকে হত্যাকারী ইদ্রিস মল্লিক সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পূর্বে কলেজে পড়াশোনা করতে করতে তাঁর মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই থেকে বেশিরভাগ সময় মানুষের সাথে ভারসাম্যহীন কথাবার্তা ও অসদাচারণ করত। নিহতর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে গতকালই বাদ এশা নামাজের জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।