ছাত্রীদের দিয়ে সন্তানের প্রসাব-পায়খানা পরিষ্কার করানোর অভিযোগ

477

জীবননগরের মাধবপুর মাদরাসার শিক্ষিকা রানীর বিরুদ্ধে
জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলার মাধবপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষিকা রানীর বিরূদ্ধে ছাত্রীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। কাজ না করলে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি এমনকি শারিরীকভাবে নির্যাতন করেন তিনি।
জানা যায়, জীবননগর উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী মাধবপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার কৃষি শিক্ষার সহকারী শিক্ষক রানী সবেমাত্র মার্তৃত্বকালীন ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। কিন্তু মাদরাসায় যোগদানের পর থেকেই সময়মত ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া, ঠিকমত ক্লাস না নেওয়া, মাদরাসার ছাত্রীদের দিয়ে তার সন্তানের প্রসাব-পায়খানা করা কাপড় চোপড় পরিষ্কার করানোসহ তার ব্যক্তিগত ব্যাগ বহন করে বাড়িতে পৌছে দিয়ে আসতে বাধ্য করেন তিনি। কাজ না করলে শিক্ষার্থীদের অকথ্য অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি এমনকি শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন শিক্ষিকা রানী।
গত শনিবার মাদরাসায় টিফিন পিরিয়ডের সময় নামাজের বিরতিকালে কমনরুমে তার সন্তান পায়খানা করলে তিনি ছাত্রীদের সেটা পরিষ্কার করতে বলেন। কিন্তু নামাজের সময় ছাত্রীরা পরিষ্কার করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ছাত্রীদের উদ্যেশ্যে অকথ্য অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। ছাত্রীরা বিষযটি অভিভাবকদের জানালে অভিভাবকরা তার বিরূদ্ধে ফুসে উঠে এবং মাদরাসায় অবস্থান করে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং পরিচালনা পর্ষদের নিকট বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান। বিষয়টির বর্ণনা দিয়ে মাদরাসার একাধিক ছাত্রী জানায়, রানী ম্যাডাম আমাদেরকে দিয়ে তার ব্যক্তিগত কাজ, তার সন্তানের প্রসাব-পায়খানা করা কাপড় চোপড় পরিষ্কার করিয়ে নেয়, না করতে চাইলে বিভিন্ন রকম খারাপ ভাষায় কথা বলে এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদরাসার একজন সহকারী শিক্ষক জানান, রানীর বিরূদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য। বিষয়টি নিয়ে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা তাজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবত মাদরাসায় উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে জানিনা। তবে ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে দেখেছি বিষয়টি সত্য। তার কাছে এই শিক্ষিকার বিরূদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের আলাদা আলাদা কমন রুম করে দিয়েছি। কিন্তু ছাত্রীদের অভিভাবকরা এই সমাধানে সন্তুষ্ঠ না হয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন এবং সেই সাথে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।