ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাশ্রমে পাল্টে গেলো সদর হাসপাতাল

320

DSCN3507চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটি চুয়াডাঙ্গা শাখার কার্যক্রম
ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাশ্রমে পাল্টে গেলো সদর হাসপাতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটির পরিচালনায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সদর হাসপাতাল পরিষ্কার করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দরা। গতকাল বুধবার ওই কমিটির উদ্যোগে এই হাসপাতাল পরিচ্ছন্নতার কর্মসূচী পালন করা হয়। এ সময় হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ, বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগসহ হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে হাসপাতালে নতুন পরিবেশ সৃষ্টি করে ছাত্রলীগের অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। তাদের সাথে পরিচ্ছন্ন অভিযানে অংশ নেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। এছাড়া পৌরসভার কর্মচারিরাও ছিলেন এ অভিযানে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার চেয়ারপার্সন পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুর নেতৃত্বে গতকাল বুধবার সকাল ৭টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মি ঝাড়ু-বেলচা হাতে সদর হাসপাতালে উপস্থিত হন। এসময় কমিটির সমন্বয়ক চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরার নেতৃত্বে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।
ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের স্বেচ্ছাশ্রমে সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এ অভিযান দুপুর পর্যন্ত চলে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক পরে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, ওয়ার্ড, রোগীর বিছানা, হাসপাতালের মেঝে ও ড্রেন পরিষ্কার করেন। এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন দেয়ালে সাঁটানো বিভিন্ন কোম্পানির ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ এবং আবর্জনার স্তুপ পরিষ্কার করেন তারা। পরিচ্ছন্ন অভিযানের দুই ঘন্টার মাথায় অপরিচ্ছন্ন হাসপাতালটি নতুন রুপে ফুটে ওঠে।
পরিচ্ছন্ন অভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান খোকন, সার্জারী কনসালটেন্ট ডা. তারিক হাসান শাহীন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুন্সী রেজাউল করিম খোকন, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেন প্রমূখ।
চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বেচ্ছায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাফিজুর রহমান মাফি, দপ্তর সম্পাদক শেখ সামী তাপু, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জানিফ, সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকির হুসাইন জ্যাকি, নাটুদাহ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি লিমন খান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এমদাদুল হক সজল, ছাত্রলীগ নেতা মিলন, আকিব, তুষারসহ অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রসঙ্গে পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘পৌরসভা এলাকার মধ্যে সদর হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষই স্বাস্থ্যসেবা নিতে এখানে আসেন। সুতরাং হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখা সকলের কর্তব্য। হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, নিজ শহরের পাশাপাশি হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। আর তাই এখন থেকে প্রতিমাসে একদিন ‘ক্লিন হাসপাতাল ক্লিন ডে’ পালন করবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
পরে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর এ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা  প্রকাশ করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের জন্য তিনজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দেন। এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বেতন-ভাতা তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রদান করবেন বলেও জানান এমপি আলী আজগার টগর।
সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা ও উন্নয়নের লক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধি এবং হাসপাতাল পরিচালনায় আর্থিক ও অন্যান্য বাধা দূরীকরণে চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশের ১০টি হাসপাতালে এই কমিটি করা হয়েছে। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম করছে এই কমিটি।’ ছাত্রলীগের এই কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, এমন ছাত্রলীগেরই স্বপ্ন দেখতেন জাতির জনক। শুধু ছাত্রলীগ নয়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সব ভালো কাজের সঙ্গে জেলার সবাইকে অংশ নেয়ার  আহবান জানান তিনি।