চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২৫ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ পর্যাপ্ত নয়: সিপিডি

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২৫, ২০২২ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। আর এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয় বলে উল্লেখ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্করণ, রাজস্ব আহরণ ও ঋণখেলাপির দিকে আরো নজর দিতে বলেছে সংস্থাটি। গতকাল রোববার ধানমন্ডিতে সিপিডির অফিসে ‘সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বহিঃখাত নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্যে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমান সংকট স্বল্পমেয়াদি নয়, মধ্যমেয়াদি। এভাবে চললে দেশ দীর্ঘমেয়াদি সংকটের দিকে যাবে। বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো না হলেও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্য দীর্ঘমেয়দি পদক্ষেপ নিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রীলঙ্কার মতো খাদে পড়ে যাওয়ার অবস্থা বাংলাদেশের হয়নি, কিন্তু আমাদের ঝুঁকি রয়েছে। নতুন গভর্নরের নেওয়া উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গণহারে খেলাপিদের সুযোগ দেওয়া সঠিক হয়নি। আমি মনে করি, অন্য যে কোনো সংস্থা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তুলনামূলক নিজস্ব ক্ষমতা বেশি রয়েছে। আমি বলব, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ শুনুন। তারা ১০টা কথা বললে ২টা তো শুনবেন। ওনারা যদি মনে করেন সব জানেন, এটা ঠিক নয়। বাংলাদেশের মানুষের কথা শুনুন।’

এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশে আয়বৈষম্য বেড়ে যাচ্ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি। বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দেন তিনি। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাহসিকতার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। জনগণকে হয়তো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে ম. তামিম বলেন, বিদ্যুতের প্রাথমিক জ্বালানি জোগান না বাড়িয়ে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হওয়ার কারণে বর্তমানে বিদ্যুৎ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতগতিতে বিদ্যুৎ আনার জন্য একসময় তেলভিত্তিক কেন্দ স্থাপনের প্রয়োজন ছিল। তবে সেটাকে তিন বা পাঁচ বছর পর্যন্ত রাখার পরামর্শ ছিল। কিন্তু সেটা না করে এখন পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে তেলের ওপর নির্ভরতা অনেক বেড়েছে। আর তেলের ওপর এই নির্ভরতার কারণেই বর্তমান সমস্যা তৈরি হয়েছে। দেশে যখন কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র শুরু হয়, তখন কয়লা ও তেল আমদানি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। একই সময়ে উচিত ছিল নিজেদের গ্যাসের জন্য অনুসন্ধান চালানো। সেটি হয়নি। পরবর্তীকালে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা-ও অনেক দেরি করে নেওয়া হয়েছে। ২০০০ সালের পর থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের রাজনৈতিক সাহস কোনো সরকারই নিতে পারেনি। বর্তমানে দেশে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে উল্লেখ করে ম তামিম বলেন, দেশে যে কোনো সময়ে উৎপাদন কমে যেতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে গ্যাস ও তেল আমদানি নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে। ইউরোপ এখন রাশিয়ার ওপর থেকে গ্যাসনির্ভরতা কমাচ্ছে। এ জন্য সারা বিশ্বে যত জায়গায় যত গ্যাস আছে, তা নিতে ইউরোপ হাত বাড়াবে। সে জন্য আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। পাশাপাশি কয়লার ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রাখাটা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কোভিড-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হলেও নতুন করে ৩ কোটি লোক দারিদ্র্যসীমায় যুক্ত হয়েছে। গ্রাম ও শহরের মানুষের আয় কমেছে। অর্থনীতিতে একধরনের অবিচারের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। নতুন নতুন দারিদ্র্য এই অবিচারের একটি। কিছু উন্নয়ন সূচক যেমন—পুষ্টি ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এতে এসডিজির লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হবে। এছাড়া যুব বেকারত্ব বাড়ছে। আর এই তিনটি মিলে অর্থনীতিতে অবিচারের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়ন-দর্শন এখন একমাত্রিক দর্শনে আটকে গেছে। অর্থনীতি এখন স্বার্থের দ্বন্দ্বনির্ভর। প্রতিটি ক্ষেত্রে অনিয়মই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যে খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছেন, সেটি বলব না। তবে তাদের লাভের অংশ কমে যাচ্ছে। দেশে লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা অস্বস্তিতে আছি। এর মূল কারণ গ্যাসের সংকট। এই সংকটের সমাধান না হলে রপ্তানিমুখী শিল্প সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং রপ্তানি কমে যাবে। এর ফলে অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হবে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।