চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৬ জানুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ইতিহাস : টাইগারদের স্মরণীয় জয়

সমীকরণ প্রতিবেদন:
জানুয়ারি ৬, ২০২২ ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও এখনকার টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক যখন মাঠ ছাড়েন অসাধারণ জয়ের গৌরব নিয়ে, মাঠের বাইরে তখন চলছে দলের অন্য সবার উদযাপন। মাঠে থাকা কিছু বাংলাদেশী সমর্থক গর্জন করে চলেছেন বাংলাদেশের নাম ধরে। আর ধারাভাষ্যকক্ষে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের উচ্চারণ, ‘বিশ্ব ক্রিকেটকেও একটা বার্তা দিলো বাংলাদেশ।’ নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো টেস্টে হারাল বাংলাদেশ, প্রথমবারের মতো টেস্ট জয় এলো ওশেনিয়া অঞ্চলে। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি টাইগারদের। নবম স্থানেই আছে তারা। তবে এই জয়ে ১০ রেটিং বাড়ল বাংলাদেশের। বাংলাদেশের রেটিং এখন ৫৭। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড হারাল ৮ রেটিং পয়েন্ট। তাদের রেটিং ১১৩। বিদেশের মাটিতে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের ৫০তম জয়। বিদেশের মাটিতে ৬০ টেস্টে ছয় জয় আছে বাংলাদেশের। হার ৫০টি, ম্যাচ ড্র চারটি। সব মিলিয়ে ১৬তম জয়। দেশের বাইরে ১৩০ ওয়ানডেতে ৩১ জয় আছে টাইগারদের। হার ৯৬টি, ম্যাচ পরিত্যক্ত তিনটি। বিদেশের মাটিতে ৩৮টি টি-২০তে ১৩ জয় বাংলাদেশের। হার ২৪টি, ম্যাচ পরিত্যক্ত একটি।


মঙ্গানুই টেস্টে নিউজিল্যান্ডের কাছ থেকে ৪০ রানের টার্গেট পেয়েছিল বাংলাদেশ। ১৬.৫ ওভার ও দুই উইকেট হারিয়ে টার্গেট স্পর্শ করে টাইগাররা। ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে লক্ষ্য তাড়া করে টেস্ট জয়ের নয়া রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশের আগের জয়ে রেকর্ডটি ছিল চার উইকেটে। ২০০৯ সালে গ্রানাডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতে নেয় টাইগাররা। ছয় উইকেটে ২১৭ রান করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ চারটি জয় পেয়েছে। অন্য দু’টি হলো যথাক্রমে ৪ ও ৩ উইকেটে। ২০১৭ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার উইকেটে এবং ২০১৪ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন উইকেটে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়। প্রথম ইনিংসে ১৩০ রানের লিড আর নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৯ রানে অলআউট করে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪০ রান। সেই লক্ষ্য তাড়া করে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মুমিনুল-মুশফিকরা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলাদেশ পেল প্রথম জয় আর মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে উড়ল লাল-সবুজের পতাকা। ২০১৭ সাল থেকে ঘরের মাঠে টানা ১৭ টেস্ট অপরাজিত থাকার পর হারের স্বাদ পেল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের দেয়া টার্গেটে ব্যাট হাতে নেমে শুরুটা ভালো করেনি বাংলাদেশ। আহত হওয়ার কারণে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাট করা মাহমুদুল হাসান জয়। শুরুতেই তিন রান করে সাউদির বলে কিপার ব্লানডেলের গ্লাভসবন্দী হন ওপেনার সাদমান। এরপর ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গ দিতে নামেন অধিনায়ক মুমিনুল। ব্যক্তিগত ১৩ রানে জেমিসনের করা বলে টেলরের হাতে ক্যাচ তুলে দেন শান্ত। পরের উইকেটে মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহীম জয়ের সমীকরণ মিলিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। ১৬ বারের দেখায় এর আগে বাংলাদেশ টেস্ট ড্র করলেও এবারই প্রথম জয়।


পাঁচ উইকেটে ১৪৭ রান নিয়ে ম্যাচের পঞ্চম দিনে ব্যাট হাতে নামে নিউজিল্যান্ড। অপরাজিত ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং স্তম্ভ রস টেলর। ৩৭ রানে দিন শুরু করা ব্যাটসম্যান বিদায় নেন মাত্র তিন রান যোগ করে। এরপর ইবাদতের শিকার জেমিসন। রানের খাতাই খুলতে পারেননি এ টেলএন্ডার। তার আগেই শরিফুলের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি। বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল পাঁচ উইকেট। বোলাররা সময় নিলেন মাত্র ১০ ওভারের একটু বেশি। ইবাদত ও তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বেশি দূর এগোতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ১৬৯ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। এ দিন মাত্র ২২ রান তুলতেই শেষ পাঁচ উইকেট হারায় তারা। বাংলাদেশের হয়ে ছয় উইকেট নেন পেসার ইবাদত হোসেন। এ ছাড়া তাসকিন আহমেদ তিনটি এবং মেহেদি হাসান মিরাজ একটি উইকেট নেন। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৪৫৮ রান করে ১৩০ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৬৯ রান। অর্থাৎ দুই উইকেট হারিয়ে ৪০ রান পূরণ করে কাক্সিক্ষত জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয় মূলত অধরা স্বপ্নের বাস্তব রূপ।


সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড ইনিংস : ৩২৮/১০ ও ৭৩.৪ ওভারে ১৬৯/১০ (টেইলর ৪০, রবীন্দ্র ১৬, বোল্ট ৯: তাসকিন ৩/৩৬, ইবাদত ৬/৪৬)। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৪৫৮ ও (লক্ষ্য ৪০) ১৬.৫ ওভারে ৪২/২ (সাদমান ৩, শান্ত ১৭, মুমিনুল ১৩, মুশফিক ৫*, সাউদি ১/২১, জেমিসন ১/১২)। ফল : বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী। সিরিজ : ২ ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচসেরা : ইবাদত হোসেন চৌধুরী।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।