চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৭ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আসানি

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ৭, ২০২২ ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আন্দামান সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই লঘুচাপ পর্যায়ক্রমে নিম্নচাপ থেকে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড় আসানিতে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সময়ের সঙ্গে শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড় আসানি প্রবল সাইক্লোনে রূপান্তরিত হতে চলেছে। এটি হতে পারে বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। সৃষ্ট এই লঘুচাপের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা অঞ্চল। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, আন্দামান সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ পরিবর্তন হয়ে গভীর লঘুচাপে পরিণত হবে। ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টির প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে নিম্নচাপ সৃষ্টি হবে ৭ মে। পরে নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপের পর এটি ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’তে রূপ নেবে। এখন পর্যন্ত লঘুচাপটি বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার দিকে মুখ করে আছে। তবে লঘুচাপটির গতিপথ বারবার বদলাচ্ছে। এ জন্য বলা মুশকিল, ঘূর্ণিঝড়টি আসলে কোনদিকে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ উত্তর-পূর্ব দিকে ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-খুলনা জেলায় আঘাত হানতে পারে। এটি আগামী ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশের পশ্চিম অথবা পূর্বাঞ্চলের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আগে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও এর আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণত লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হতে অন্তত ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। কখনো কখনো ৪৮ ঘণ্টা লেগে যায়। ‘আসানি’ শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না অথবা হলেও বাংলাদেশে কতটা প্রভাব পড়বে সেটা এখনো বলার সময় হয়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মে মাসে বড় বড় ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে। ২০০৯ সালের ২৫ মে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ ধ্বংস করে উপকূল। এতে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছিল সুন্দরবন। ২০২০ সালে এই অঞ্চলে পুনরায় আছড়ে পড়ে সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’। এটাও ২০ মে। ২০২১ সালের ২৬ মে ভয়ঙ্কর দাপটে আসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। এবার আসছে ‘আসানি’। এই নামটি শ্রীলংকার দেওয়া। আসানির অর্থ হচ্ছে ক্ষুব্ধ। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপ। এ অঞ্চলের ১৩টি দেশের দেওয়া নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়।
আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মঞ্জুরুল হান্নান খান বলেন, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে আঘাত করার সময় তিন দিন পিছিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিমুখও পরিবর্তন হয়েছে। আমেরিকান মডেল অনুসারে ১৩ মে দুপুরের পর থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রম ও নোয়াখালী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাতের আশঙ্কার কথা নির্দেশ করছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে আঘাত করার সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ উঠতে পারে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। ইউরোপিয়ান মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি সাতক্ষীরা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলো লন্ডভন্ড করে দিতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, এ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের পশ্চিম অঞ্চলে যেতে পারে আবার পূর্বাঞ্চলেও যেতে পারে।
এদিকে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আরও ২ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টির কথা নিশ্চিত করেছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরও। শুক্রবার ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয় পশ্চিমাঞ্চলীয় নিম্নচাপটি পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আসানি আঘাত হানার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবার মধ্যরাতে কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী সৃষ্টি ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য জায়গায় পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও বলছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ মোকাবিলায় সরকারের পর্যাপ্ত প্রস্ততি আছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়প্রবণ দেশ। আমাদের অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে, লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলয় বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় ১৪ হাজারের বেশি শেল্টার সেন্টার প্রস্তুত করে ২৪ লাখের বেশি মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উত্তর-পূর্বদিকে ভারতের ওড়িশা, পশ্চিমবাংলা হয়ে সাতক্ষীরা জেলায় আঘাত হানতে পারে আসানি। আসানি মোকাবিলায় সরকারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। কোন ধাপে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা ঠিক করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও অন্যান্য পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। কোন পর্যায়ে কোন সংকেত দেওয়া হবে তা ঠিক করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পর্যায়ক্রমে নির্দেশনাগুলো পাঠানো হবে। সবাই এখন অ্যালার্ট। ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রায় সাত হাজার শেল্টার হাউস আছে, প্রয়োজনে স্কুল-কলেজ ও অন্যান্য ভবন কাজে লাগানো হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।