চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশে জেলা প্রশাসক : আজ হোক বা একবছর পর, বাল্য বিয়ে দিলেই দন্ড

382

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক সমস্যা এবং দন্ডণীয় অপরাধ। তারপরেও অভিনব কৌশলে অভিভাবকদের চাপে বাল্য বিয়ের শিকার হচ্ছে স্কুল ছাত্রীরা। বাল্য বিবাহ বন্ধে তাই ব্যতিক্রম কৌশল অবলম্বন করা হবে। ‘যে কোন কৌশলেই হোক বাল্য বিবাহ দিলে, আমরা যখন জানতে পারবো তখনই তাদের বিরুদ্ধে দন্ডণীয় ব্যবস্থা নেব। তা আজ হোক বা একবছর পর।’
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ।
তিনি আরো বলেন, ‘ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে রং-বেরঙের বোরকা পরে স্কুল/কলেজগামী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। ব্যাগের মধ্যে বোরকা নিয়ে কোচিং বা ক্লাসে যাওয়ার কথা বলে স্কুলড্রেস পরে বাড়ি থেকে বের হয়ে পার্কে গিয়ে সময় কাটাচ্ছে। ফলে দিনের পর দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমছে, ফলাফল খারাপ হচ্ছে। এ সমস্যা নিরসনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রাম সম্বলিত নির্দিষ্ট রঙের বোরকা নির্ধারণ করা হবে।’
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রতিষ্ঠানিক হলরুমে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মালাকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে কোন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত বা অনিয়মিত হলে পুলিশকে জানান। বাল্য বিয়ে, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও ইভটিজিং মোকাবেলায় পুলিশকে তথ্য দিন।’
শিক্ষক ও জনবল স্বল্পতার সমস্যা নিরসনে করণীয় কী? অভিভাবকদের এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘শিক্ষক সংকট সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন। আমি আমার দায়িত্ব পালনের অতিরিক্ত সময়ে বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস নেবো। আরও জনবল দরকার হলে জেলা পুলিশ সদস্যরা আপনাদের সহায়তা করবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হক। অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আশাদুল হক, লাল মোহাম্মদ প্রমূখ।